এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভোটে কার্যত ক্ষমতাহীন ডিএম, এসপি-রা

এ বারের ভোটে ১৯৫১ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ ধারা প্রয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এলাকায় এলাকায় ভয় দেখানো বা ভোটদানে বাধা হলে এই আইনে পদক্ষেপ করা হবে। এমন বিধির অস্তিত্ব থাকলেও, এত দিন তা প্রয়োগ হতে দেখা যেত না।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৯

—প্রতীকী চিত্র।

‘সন্তানসম’ আধিকারিকদের উপর দায়িত্বের ‘বোঝা’ আর রাখতে চাইছে না জাতীয় নির্বাচন কমিশন! তাই এ বারের ভোট-পরিকল্পনার দায়িত্ব থেকে তাঁদের দূরে রাখা হবে বলেই মনে করছেন জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-কমিশনারেরা। জেলা প্রশাসন এবং কমিশন সূত্রের বক্তব্য, কী ভাবে ভোট করানো হবে, এ বার তাঁদের হাতে সেই ক্ষমতা তেমন আর থাকছে না শুধু সইসাবুদ আর নির্দেশ পালন করা ছাড়া। সেই পরিকল্পনার পুরো ক্ষমতা থাকবে পর্যবেক্ষকদের।

এ বারের ভোটে ১৯৫১ জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ ধারা প্রয়োগেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এলাকায় এলাকায় ভয় দেখানো বা ভোটদানে বাধা হলে এই আইনে পদক্ষেপ করা হবে। এমন বিধির অস্তিত্ব থাকলেও, এত দিন তা প্রয়োগ হতে দেখা যেত না।

গত সপ্তাহের গোড়ায় রাজ্য সফরে এসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করেছিল জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-কমিশনারদের সঙ্গে। জেলা-কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সকলের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, জেলাশাসক-পুলিশ সুপার-কমিশনারেরা তাঁর ‘সন্তানসম’। তাঁদের উপরে ‘বোঝা’ চাপাতে চায় না কমিশন। তাই ভোটের সময় জেলা-কর্তাদের কাছে ঊর্ধ্বতন কোনও কর্তৃপক্ষের তরফে ‘নির্দেশ’ এলে তাঁরা জানিয়েই দিতে পারেন, তাঁদের হাতে তা পালন করার মতো কোনওক্ষমতাই নেই!

এই বক্তব্য নিয়ে জেলা-কর্তাদের ব্যখ্যা মূলত দু’টি। প্রথমত, কমিশনের যে কোনও সিদ্ধান্ত এত দিন কার্যকর করে এসেছেন জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার-কমিশনারেরাই। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা, তারা কোন রাস্তা দিয়ে ঘুরবে, কোন গোলমাল কী ভাবে সামলাবে ইত্যাদি সবই তাঁদের উপর। তাই স্থানীয় পুলিশই পথ দেখাত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। এ বার বাহিনী-ব্যবহারের পুরো পরিকল্পনা তৈরি হবে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে। কী ভাবে এবং কোথায় বাহিনী ব্যবহার হবে, কী হবে তাদের ভূমিকা—তা স্থির হওয়ার পরে সেই অনুযায়ী জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের অধীনে পদক্ষেপ করবেন স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকেরা। অর্থাৎ, বাহিনীর ব্যবহার প্রশ্নে পুলিশের ভূমিকা অনেক সীমিত হতে চলেছে। দ্বিতীয়ত, অতীতে বিরোধীরা বার বার অভিযোগ করতেন, জেলা-কর্তাদের উপর ঊর্ধ্বতনের ‘চাপ এবং নির্দেশ’ থাকত। এ বার তেমন নির্দেশ থাকলেও, মূল দায়িত্বগুলি না থাকায় জেলা-কর্তারাদের পক্ষে তা তামিল করা কার্যত অসম্ভব।

এক জেলা-কর্তার কথায়, ‘‘ভোটের পর্যবেক্ষকেরাও আতস কাচের তলায় যে থাকবেন, তা কমিশন বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে। যে টুকু দায়িত্ব থাকবে আমাদের উপর, তাতেও থাকবে কড়া নজর। কোনও বিচ্যুতিতে প্রয়োগ হতে পারে আইনের ৩১১ ধারা। যাতে নিজেরাই কঠোর শাস্তি দিতে পারে কমিশন। তার জন্য বিভাগীয় তদন্ত, শো-কজ় করার দরকারই হবে না।’’

অতীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রাজ্য পুলিশের হাত থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীরই কর্তাদের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। তাতে সম্মত হয়নি রাজ্য। অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশের অনুমান, এ বার কার্যত ঘুরিয়ে তেমন পদক্ষেপই হতে চলেছে। তবে পার্থক্য হল—পরিকল্পনা পুরোপুরি থাকবে কমিশন তথা পর্যবেক্ষকদের উপর। পুলিশের শুধু কাজ— তা মেনে চলা।এমনকি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঠিক ভাবে ব্যবহার বা প্রভাবমুক্ত রাখা না গেলে বাহিনী-কর্তা থেকে স্থানীয় জেলা প্রশাসন— সকলেই শাস্তির মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ৭ জওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপকরেছে কমিশন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
DM sp Election Commission

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy