E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা, আশঙ্কা বাড়িয়ে বিপুল বাড়ল অশোধিত তেলের দাম

২০২২-এর জুনে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম উঠেছিল ১২২ ডলারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হানায় জোগান ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কাই ছিল কারণ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ বারও সেই উদ্বেগেই দাম চড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৫ ০৭:১০
বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে ব্যারেলে ৭৬ ডলারের কাছাকাছি।

বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে ব্যারেলে ৭৬ ডলারের কাছাকাছি। —প্রতীকী চিত্র।

বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেশ কিছু দিন ধরেই ছিল ব্যারেলে ৬০-৬৫ ডলার। ফলে দেশে তা আমদানির খরচ কিছুটা কমলেও, সেই সুবিধা পৌঁছয়নি সাধারণ মানুষের ঘরে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি ছিল, আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বহাল থাকা ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের আবহে অশোধিত তেল ফের চড়তে পারে। কাজেই সুযোগ নষ্ট হওয়ার আগে তার সদ্ব্যবহার করে দেশে দাম কমাক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। আর্জিতে কাজ হয়নি। তবে আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। ইরানের উপর ইজ়রায়েলের হামলায় শুক্রবার পশ্চিম এশিয়া নতুন করে তেতে উঠতেই চড়তে শুরু করল অশোধিত তেল। বিপুল লাফিয়ে ইউরোপের ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলে পৌঁছে গেল ৭৬ ডলারের কাছে। আমেরিকার ডব্লিউটিআই উঠল প্রায় ৭৩ ডলারে।

এর আগে ২০২২-এর জুনে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম উঠেছিল ১২২ ডলারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হানায় জোগান ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কাই ছিল কারণ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ বারও সেই উদ্বেগেই দাম চড়ছে। কারণ, ইরান পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম তেল উৎপাদক এবং রফতানিকারী দেশ।

এ দিন সকালে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ও সেনা ছাউনি আক্রমণ করে ইজ়রায়েল। তেহরান ইতিমধ্যেই প্রতি-আক্রমণে নেমেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, লম্বা হতে পারে সংঘর্ষের মেয়াদ। সে ক্ষেত্রে তেলের জোগানই সব থেকে বেশি ধাক্কা খাবে। উপদেষ্টা জেপি মর্গানের সতর্কবার্তা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অশোধিত তেল ফের ১২০ ডলারে চড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক দামের সুবিধা নিয়ে পেট্রল-ডিজ়েল সস্তা করার সুযোগ হেলায় হারাল ভারত। এ দেশে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম যে ভাবে বাড়ে, কমার ক্ষেত্রে তা হয় না। তেল মন্ত্রকের কর্তারা কিছু দিন আগে দাবি করেছিলেন, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সস্তা হলেও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে সতর্ক ভাবে পা ফেলতে চাইছেন তাঁরা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার কর্তারা। অপেক্ষা করছেন। কারণ একবার দাম কমালে, তা আবার চট করে বাড়ানো যাবে না। যার নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হবে।

কলকাতায় আইওসি-র পাম্পে পেট্রলের লিটার এখন ১০৫.০১ টাকা। ডিজ়েল বিক্রি হয় ৯১.৮২ টাকায়। গত বছর লোকসভা ভোটের আগে, মার্চে দু’ক্ষেত্রেই লিটারে দাম ২ টাকা করে কমে। ২০২২-এর মে মাসের পরে দামে এটুকু ছাড়া বিশেষ রদবদল হয়নি। অথচ চলতি বছরেরই এক সময় বিশ্ব বাজারে তেল ৫৯ ডলারে নেমেছিল। গত চার বছরে যা ছিল সর্বনিম্ন। তার পরে তা ছিল ৬১-৬২ ডলারে। পরে একটু উঠে দাঁড়ায় ৬৫-র আশেপাশে। এ বার প্রায় ১১ ডলার বাড়ল। যা উল্টে দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আশঙ্কা

বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে ব্যারেলে ৭৬ ডলারের কাছাকাছি।

ডব্লিউটিআই ৭৩ ডলার।

কলকাতায় পেট্রল লিটারে ১০৫.০১ টাকা।

ডিজ়েল ৯১.৮২ টাকা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
crude oil price Crude Oil

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy