প্রাথমিক ভাবে লক্ষ্য ছিল, গত জুলাই মাস থেকে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বাণিজ্যিক ভাবে উঠতে শুরু করবে তরল সোনা। যা বদলে দিতে পারে রাজ্যের শিল্প মানচিত্রকে। কিন্তু চলতি মাসে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের করা প্রশ্নের উত্তরে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও বাণিজ্যিক ভাবে অশোকনগর তৈলক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হয়নি।
প্রায় এক দশক আগে অশোকনগর এলাকায় সন্ধান চালিয়ে মাটির নীচে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছিল ওএনজিসি। ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দীর্ঘ দিন ধরে কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করে এসেছেন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এর ফলে রাজ্যের কোষাগারে যেমন রাজস্ব আসবে, তেমনই চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।’’ অশোকনগর ছাড়া রানাঘাট এলাকাতেও তেলের ভান্ডারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল অশোকনগর তৈলক্ষেত্র থেকেই রাজ্য সরকারের একশো কোটি টাকার কাছাকাছি রয়্যালটি পাওয়া কথা। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের সুরেশ গোপী, শমীকের করা প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, প্রথম কুয়োতে খননের কাজ ৩০ মে শুরু হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে তেল উৎপাদন এখনও শুরু হয়নি।
ওই প্রকল্প রূপায়িত হলে দেশের হাইড্রো-কার্বন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার থাকায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তেল উত্তোলনে পরিকাঠামোগত নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে দ্রুত যাবতীয় জট কেটে বাণিজ্যিক ভাবে তেল উত্তোলন শুরু হবে বলে আশা করছেন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের স্বার্থে ওই প্রকল্পে গতি আনতে হবে। দ্রুত যাবতীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। রাজ্য ও কেন্দ্র ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে আন্তরিক ভাবে এগোলে বেকারত্বের সমস্যা কিছুটা হলেও মেটানো সম্ভব হবে।’’