চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। দু’বছর আগে তা চালু হয়। কিন্তু অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকার এ রাজ্যে তা চালু হতে দেয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রৎসাহন যোজনার আওতায় থাকা সুযোগগুলি পায়নি পশ্চিমবঙ্গের চা বাগানগুলি। এ বার পালাবদলের পরে সেটি চালু করতে চলেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। যার অধীনে এখানকার চা শ্রমিকদের কল্যাণে বরাদ্দ প্রায় ৩১৪ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার কলকাতায় চা বাগানের মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিভাগের যুগ্মসচিব অমিত কুমার এবং চা পর্ষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি মুরুগন জানান, দু’বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের জন্য তিন বছর মেয়াদের ১০০০ কোটি টাকার ওই প্রকল্প এনেছিল কেন্দ্র। তাতে চা শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করার কথা। এতে এ রাজ্যের জন্য ৩১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা আছে। অসম অবশ্য ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্পে ২৯৩ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে।
অমিত এবং মুরুগন জানান, প্রকল্পটিতে যেহেতু অর্থ লেনদেন হবে, তাই সেটি কার্যকর করতে রাজ্য ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গড়া জরুরি। তাঁরা বলেন, “আমরা পূর্বতন সরকারকে বহু বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নামের সঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি জড়িত থাকায় তারা প্রকল্প চালুর জন্য ওই কমিটি গঠন করেনি। এতে কিন্তু পুরো টাকাই কেন্দ্র দেবে। রাজ্যকে কোনও খরচ করতে হবে না।” অমিত জানান, এ বার অবশ্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ওই কমিটি তৈরি হয়েছে। তারা চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাসস্থানের উন্নতির লক্ষ্যে প্রস্তাব পেশ করবে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রকল্প কার্যকর করার কাজ শুরু হবে। তবে ওই প্রকল্পের আওতায় ছোট চা বাগানগুলিকে রাখা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন তাদের সংগঠন সিস্টা-র সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “ছোট বাগানকেও এতে রাখার আর্জি জানিয়েছা। চা শিল্পে এই বাগানগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁরাও আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। ফলে সেগুলির উন্নতির জন্য সিস্টা চার দফা দাবি-সহ একটি স্মারকলিপি এ দিন কেন্দ্রের কাছে জমা দিয়েছে।’’
সিস্টা অবশ্য আরও বেশ কিছু দাবি নিয়ে সরব হয়েছে। বিজয়গোপাল জানান, বিদেশে সবুজ চা পাতা বিক্রির ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম দাম বেঁধে দেওয়া জরুরি। চা পাতা উৎপাদনের খরচ, মূল্যবৃদ্ধি এবং ন্যায্য মুনাফার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম দাম স্থির করতে হবে। সেই দামে কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তাতে নজর রাখতে হবে। নজরদারির জন্য পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা দরকার। ছোট চা বাগানগুলির উন্নয়নের জন্য জাতীয় স্তরে একটি তহবিল গড়ার দাবিও জানিয়েছে সিস্টা। সেই সঙ্গে তাদের আর্জি, ছোট চা বাগানের মালিকরা যাতে কম সুদে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র।