Advertisement
E-Paper

তথ্য না দিলে শো-কজ ও জরিমানা! বেসরকারি স্কুলগুলিকে সতর্ক করল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন

গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিয়ো (জিইআর), নেট এনরোলমেন্ট রেশিয়ো (এনইআর), পড়াশোনা ধরে রাখার হার, ড্রপআউট বা স্কুলছুটের হার জানার মূল ভিত্তিই হল এই পোর্টাল। কিন্তু বেসরকারি স্কুলগুলি সঠিক তথ্য না দেওয়ায় বহু পড়ুয়া এই ডেটাবেসের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাক্ষেত্রের আসল রূপটি জানা সম্ভব হচ্ছে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ১৭:০০

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলির একাংশের বিরুদ্ধে এ বার কড়া নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। স্কুল শিক্ষার মান এবং পড়ুয়াদের সঠিক পরিসংখ্যান জানতে ‘ইউডাইস প্লাস’ পোর্টালে সব তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যের বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুল এই তথ্য দিচ্ছে না অথবা অসম্পূর্ণ ও ভুল তথ্য জমা দিচ্ছে। এই গরমিল রুখতে এবং তথ্য না দিলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে এ বার রাজ্যজুড়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসকদের একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্কুল শিক্ষার নীতি নির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন এবং রাজ্য ও জাতীয় স্তরে শিক্ষার অগ্রগতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ইউডাইস প্লাস’ হল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ভান্ডার। গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিয়ো (জিইআর), নেট এনরোলমেন্ট রেশিয়ো (এনইআর), পড়াশোনা ধরে রাখার হার, ড্রপআউট বা স্কুলছুটের হার জানার মূল ভিত্তিই হল এই পোর্টাল। কিন্তু বেসরকারি স্কুলগুলি সঠিক তথ্য না দেওয়ায় বহু পড়ুয়া এই ডেটাবেসের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাক্ষেত্রের আসল রূপটি জানা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি, রাজ্যের শিক্ষাগত ফলাফল কেমন তা-ও জানা যাচ্ছে না। যা সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বড়সড় সমস্যা তৈরি করছে বলেই উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে ২০০৯ সালের ‘শিশুদের বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন’-এর ১২ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, যে কোনও স্বীকৃত স্কুল, তা যে কোনও ব্যবস্থাপনার অধীনেই পরিচালিত হোক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের চাওয়া সব তথ্য দিতে আইনত বাধ্য। বারবার যোগাযোগ করার পরেও যদি কোনও স্কুল এই তথ্য আপলোড করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। নিয়ম না মানা স্কুলগুলির বিরুদ্ধে প্রথমে শো-কজ নোটিস জারি করা হবে। এর পরেও যদি কোনও স্কুল ক্রমাগত তথ্য প্রদানে অবহেলা দেখায় অথবা ভুল ও অসত্য তথ্য জমা দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে সংশ্লিষ্ট সব উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জেলাশাসকদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন ব্যক্তিগত ভাবে এই বিষয়টি তদারকি করেন। তাঁদের এলাকার প্রতিটি বেসরকারি ও অন্যান্য নন-গভর্নমেন্ট স্কুল যাতে সম্পূর্ণ, নির্ভুল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘ইউডাইস’ প্লাস ডেটা জমা দেয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘বেসরকারি বেশ কয়েকটি স্কুল নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করে। যার ফলে রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি কিছুই জানা যায় না। এই পদক্ষেপ করা খুবই দরকার শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য।’’

Private Schools

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy