দু’তিন বছর ধরে এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে উল্টে পুলিশ পাচারকারীদেরই মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার টাপুরহাট এলাকা। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী। আহত হয়েছেন আট জন পুলিশকর্মীও।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। পাচারকারীদের ঠেকাতে কোচবিহারের গোশালবাড়ি রোডে গ্রামবাসীরা একটি কমিটি গঠন করে রাতে ওই রাস্তায় পাহারা দেয়। ওই দিনও তাঁরা পাহারা দিচ্ছিলেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের একটি ভ্যান আসে এবং কমিটির লোকজনকে ব্যাপক মারধর করে। এতে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এলাকায়। এর পর বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে তাঁদেরকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছুড়তে থাকে ক্ষিপ্ত জনতা। পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আহত হন আট পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি সামলাতে শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ। কৃষ্ণ মোদক(২৫) নামে এক যুবকের চোয়ালে গুলি লাগে। গুরুতর আহত কৃষ্ণকে চিকিত্সার জন্য কোচবিহার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোচবিহারের ডিআইজি সি এস লেপচা বলেন, “রাতের বেলায় গাড়ি থামিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে টাকা আদায় করে দুষ্কৃতীরা। এ দিনও করছিল। পুলিশ বাধা দিতে এলে তাঁদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে তারা।”
এ দিন দুপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গ্রামবাসীরা।