সম্প্রতি বিভিন্ন মঞ্চে কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধীকে পিতৃতন্ত্র খতম করার পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। আজ পাল্টা মুখ খুলে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী কংগ্রেসশাসিত রাজ্যের মন্ত্রিসভায় মহিলা বিধায়কদের নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানালেন। একই সঙ্গে আজ তিনি সরব হন জেএমএম-কংগ্রেস শাসিত ঝাড়খণ্ডের চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়েও।
সম্প্রতি পুণে শহরে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে সওয়াল করে পিতৃতন্ত্রের অবসানের ডাক দিয়েছিলেন রাহুল গাঁধী। কিন্তু বাস্তবে রাহুলের দল কংগ্রেস মহিলাদের ক্ষমতায়নের প্রশ্নে কতটা আন্তরিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সুধাংশু। তাঁর কথায়, ‘‘মহিলাদের ক্ষমতায়নের পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে, যা অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু কংগ্রেসের সরকার দেশের চার রাজ্যে রয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, কেরল ও তেলঙ্গনা। এর মধ্যে কেরল মন্ত্রিসভায় দু’জন ও তেলঙ্গনা মন্ত্রিসভায় কেবল এক জনই মহিলা মন্ত্রী রয়েছেন। যার অর্থ চার রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার থাকলেও, মহিলা মন্ত্রী কেবল তিন জন। এটা অবিচার ছাড়া আর কিছুই নয়। মৌখিক দাবি করলেও সত্যিকারের ক্ষমতায়নের প্রশ্নে কংগ্রেস পিছিয়ে যায়।’’ উল্টো দিকে তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদীর বর্তমান সরকারে যে সংখ্যক মহিলা মন্ত্রিসভায় রয়েছেন, তা অতীতে ছিল না।
পাশাপাশি নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কংগ্রেস সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় যে অনিয়ম হয়েছে, তা নিয়ে কেন চুপ সেই প্রশ্নও তুলেছেন সুধাংশু। তাঁর কথায়, ‘‘ওই রাজ্যে চুরি নয়, পরীক্ষা লুঠ হয়েছে। বন বিভাগের পরীক্ষায় স্ট্রংরুম ভেঙে প্রশ্নপত্র চুরি হয়েছে। যা পরে বিক্রি করা হয়।’’ ঝাড়খণ্ডে জেএমএম সরকারের শরিক কংগ্রেস। সুধাংশুর দাবি, সেই কারণেই রাহুল তথা কংগ্রেস নেতৃত্ব ওই প্রশ্নপত্র চুরি নিয়ে একেবারে নীরব। সুধাংশু বলেন, ‘‘ওই চুরিতে কারা জড়িত, তা নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের কংগ্রেস মন্ত্রীদের জবাব দেওয়া উচিত। কিন্তু শরিকি বাধ্যবাধকতায় মুখে কুলুপ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।’’ অন্য বিরোধী দল যারা নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরব ছিল, তারাও কেন নীরব? প্রশ্ন তাঁর।