ওঁরা হাসছেন! মজা করছেন। কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। প্রশ্ন তুলছেন, ককরোচ জনতা পার্টিকে নিয়ে মোদী সরকারের এমন ‘থরহরি কম্প’ অবস্থা কেন?
অভিজিৎ দীপকে বলছেন, ‘‘আমাদের বিশ্বগুরু, ছাপ্পান্ন ইঞ্চির মহামানব দিল্লি যাওয়ার ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছেন! নরেন্দ্র মোদী এখন সরকারি ভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। রক্তচাপ মাপতে থাকবেন স্যার।’’
সৌরভ দাস হাসতে হাসতে বলছেন, ‘‘সাতান্নটা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছেন! এ সব ইন্দিরা গান্ধী দ্য ডিক্টেটর করেননি। কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার দিল্লি বন্ধের ডাক দিয়েছে।’’
আশুতোষ রাঙ্কার প্রশ্ন, ‘‘আপনার শরীর ভাল আছে তো? বিজেপির লোকেরা তো বলছেন, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে লোকই হচ্ছে না। তা হলে এত ভয়, দিল্লিতে এত কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ কেন?”
শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তরের আন্দোলন ঠেকাতে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ দেশের রাজধানীকে দুর্গে পরিণত করে ফেলেছে। এ দিকে যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রধান আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, দুই যুগ্ম-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস হেসে কুটিপাটি। দিল্লি পুলিশ সরকারি ভাবে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের অনুমতি খারিজ করে দিলেও তাঁরা একে ‘ব্রেকিং নিউজ’ বলে তাচ্ছিল্যে উড়িয়ে দিচ্ছেন। দীপকে বলেন, ‘‘আমাদের আন্দোলন হবে। সংবিধানের ১৯তম অনুচ্ছেদে প্রতিবাদের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার জন্য অনুমতিরকী দরকার?”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার সকাল ১০টা থেকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আইসা, এসএফআই-সহ বাম ছাত্র সংগঠনও তাতে যোগ দিচ্ছে। অভিজিৎ শনিবার সকালে দিল্লি পৌঁছে সরাসরি যন্তর মন্তরে যাবেন। তাঁকে ও অন্য নেতাদের আটক বা গৃহবন্দি করে রাখা হবে বলেই মনে করছেন সিজেপি নেতারা। কারণ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে সিজেপি, বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিল্লি আসার আগেই আটক করা হয়েছে। দিল্লির রাস্তায় ৩৭টি জায়গায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর ব্যবস্থা হয়েছে। জেন জ়ি-দের আটক করে ধরে রাখতে গোটা দিল্লিতে ১৫টি ‘ডিটেনশন সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে। সৌরভ হাসছেন, ‘‘কম পড়ে যাবে।’’
সিজেপি-র আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহ বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছে বলছেন, ‘‘দিল্লি পুলিশ বিমানবন্দর থেকে আমার উপরে নজরদারি করছে। এঁদের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এত ভয় কিসের?” তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে কেন সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা হচ্ছে? বিজেপি কি জ্ঞানেশ কুমারের থেকে ফায়দা পেয়েছে? না কি এসআইআর থেকে বিজেপির লাভ হয়েছে? তা না হলে এসআইআরের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিজেপির কী সমস্যা?”
শনিবারের যন্তর মন্তরের আন্দোলনের আগে ধরপাকড়কে আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা ‘খোলাখুলি জরুরি অবস্থা’ ও ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, বিয়াল্লিশে যখন ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, তখন এ ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের গৃহবন্দি করা হয়েছিল। তখন আমজনতাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একই ভাবে শনিবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের নেতাদের গ্রেফতার-আটক করা হলে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামবে। তরুণদের প্রতি নেহার বার্তা, ‘‘যেখানে আটকাবে, সেখানেই বসে পড়বেন। এটা ‘উই দ্য পিপল’ বনাম বিজেপির লড়াই।’’
দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ককরোচরা হিংসা তৈরির চেষ্টা করবে। উল্টোদিকে ককরোচ-দের দাবি, দিল্লি পুলিশ তথা বিজেপির ‘লেঠেল বাহিনী’ হিংসা করবে। আশুতোষ ককরোচ-সমর্থকদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘একটাই কথা মনে রাখার, হাতে সংবিধান, হৃদয়ে গান্ধী। যা-ই হোক, আমরা কারও গায়ে হাত তুলব না।’’