গত গাঁধী জয়ন্তী থেকে রাজধানী দিল্লি আন্দোলনকারীদের দখলে। প্রায় ফি-দিনই এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনে পথে নামছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনে বসার কথা রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র। তা সামলানো অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন দিল্লি পুলিশের কাছে আরও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিরোধীরা।
অন্য রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশাসনের হাতে। কিন্তু দিল্লি পুলিশের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে থাকায় ওই আন্দোলন ঠেকানোর গোটা দায় এসে পড়েছে দিল্লি পুলিশ তথা অমিত শাহের ঘাড়ে। কিন্তু সমস্যা হল আন্দোলনকারীদের যেখানে রোখা হবে সেটাই যন্তর মন্তর ধরে নিয়ে, সেখানেই ধর্না শুরু হবে। বিক্ষোভকারীরা এই নীতি নেওয়ায় তাঁদের সামলানোর প্রশ্নে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। মধ্য দিল্লির একের পর এক রাস্তা ব্যারিকেড করে, মেট্রো স্টেশন বন্ধ করেও আন্দোলনকারীদের সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ। কারণ যন্তর মন্তরে পৌঁছতে না পেরে যেখানে বাধা পাচ্ছেন, সেখানেই ধর্নায় বসে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। যে বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও এমনকি যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।গত সপ্তাহান্তে (৩-৪ অক্টোবর) হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা ছিল শাহের। দিল্লি জুড়ে বিক্ষোভ আন্দোলন চলায় সেই সফর বাতিল হয়। ৭-৮ অক্টোবর মণিপুর সফরে যাওয়ার কথা ছিল শাহের। বাতিল হয়েছে তা-ও। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়া উপলক্ষে শাহ কলকাতা যেতে পারেন বলেন জল্পনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু সে দিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছে সিজেপি-সহ নানা সংগঠন। ওই দিন তাই প্রবল ঝামেলার আশঙ্কা করছে দিল্লি পুলিশ। যে কারণে পরিস্থিতি নজরে রাখতে শাহ ওই দিন দিল্লিতেই থাকবেন। সূত্রের মতে, কতক্ষণ বিরোধী নেতাদের আন্দোলনস্থলে বসতে দেওয়া হবে, কখন তুলে নেওয়া হবে— পুরোটাই হচ্ছে শাহের নির্দেশে।
এ দিকে আগামী শনিবার সিজেপি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিলেও এখন ধর্নায় বসার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। কিন্তু সিজেপি-র অতীত আন্দোলনের স্বরূপ দেখে দিল্লি পুলিশের আশঙ্কা, অনুমতি না দিলেও, শনিবার দিল্লিতে বড় মাপের বিক্ষোভ হতে চলেছে। যাতে অংশ নেবে রাজনৈতিক দলগুলিও। বিক্ষোভ কোন পথে রোখা হবে তা নিয়ে এখনও কার্যত দিশাহীন দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, “কৃষক আন্দোলনের সময় ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি পুলিশকে কখনও এত দুর্বল দেখায়নি।”