হড়পা বান বিপর্যয়ে বিদেশি সাহায্য নেবে না বলে জানিয়েছিল নেপাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক চাপের সামনে তাদের নতিস্বীকার করতে হয়েছে। নেপাল রাজি হওয়ার পরেই সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, নেপালের অনুরোধেই ভারত পদক্ষেপ করছে। কী ভাবে উদ্ধারকাজে সাহায্য করা হবে, সেই পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।
রণধীর তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ‘‘নেপালের অনুরোধে আমরা সেখানে একটা উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার জন্য আগে নেপালে যাবে একটি পরিস্থিতি-পর্যবেক্ষণকারী(রেকি) দল। তারা গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। কী কী সরঞ্জাম দরকার হবে, খতিয়ে দেখা হবে।’’ ওই দলটির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভারতের মূল উদ্ধারকারী দল রওনা দেবে নেপালের উদ্দেশে।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া, নেপালে একটি মেডিক্যাল টিমও পাঠাচ্ছে ভারত। রণধীর জানান, নেপালে সেতু (বেইলি ব্রিজ) তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত, যাতে বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচ্ছিন্ন জায়গাগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।
গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। কাদামাটি ও নদীর জলের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি, মানুষ খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৭৯। তবে বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। নেপালে এখনও ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের অধিকাংশই পর্যটক, গিয়েছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে। অন্য অনেক দেশের নাগরিকেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে।
নেপাল প্রথমে জানিয়েছিল, উদ্ধারকাজে তারা কোনও বিদেশি সাহায্য নেবে না। তাদের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ-প্রশাসনের উপরেই ভরসা রাখছিল বলেন্দ্র শাহের সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবারই বলেন্দ্রকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভারত ত্রাণসামগ্রীও পাঠিয়েছিল বায়ুসেনার বিমানে। কিন্তু উদ্ধারকারী দল পাঠাতে দেয়নি নেপাল। অবশেষে শুক্রবার আন্তর্জাতিক চাপের কাছে তাদের নতিস্বীকার করতে হয়েছে। যে সমস্ত দেশের নাগরিক নেপালে নিখোঁজ, সেই সব দেশ উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর জন্য কাঠমান্ডুকে বার বার অনুরোধ করছিল। শেষপর্যন্ত তাদের রাজি হতে হয়েছে। ভারত ছাড়াও নেপালকে উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল চিন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেন, আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
- বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
- হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
-
নিজের এক মাসের বেতন একটি পরিবারকে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী! নেপালে নিখোঁজদের পরিজনকে সব রকম সহায়তারও আশ্বাস
-
চিনে নিরাপদ শিবিরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকেরা? নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৩৭ জনের সন্ধানে নবান্নের দ্বারস্থ পরিবার
-
নিখোঁজদের পরিবারকে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যেতে বলল কেন্দ্র! গভীর রাতে তিব্বতে ভূমিকম্প, কাঁপল নেপালও
-
হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে খামার, ক্ষতিগ্রস্ত চাষজমি, সব হারিয়ে দিশাহারা নেপালের কৃষকেরা
-
নেপালের হড়পা বানে অনিশ্চিত চিনের স্বপ্নের প্রকল্প, রেলপথে নেপাল এবং তিব্বতকে আর জোড়া যাবে কি? সংশয়ে বেজিং