Advertisement
E-Paper

অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী বদল কর্নাটকে! শিবকুমারকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র দিলেন সিদ্দারামাইয়া

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে বার্তা দিয়েছিলেন, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর গদি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১১:৩২
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ডিকে শিবকুমার এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার প্রাতরাশে। ছবি: পিটিআই।

মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ডিকে শিবকুমার এবং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার প্রাতরাশে। ছবি: পিটিআই।

ডিকে শিবকুমারকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র দিয়ে এলেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। তাঁর উত্তরসূরি যে ডিকে-ই হচ্ছেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন সিদ্দু। প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ দিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন সিদ্দারামাইয়া।

বৃহস্পতিবার নিজের বাসভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। সিদ্দারামাইয়ার জায়গায় যিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, সেই বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রাতরাশ বৈঠকে সিদ্দু (এই নামেই ঘনিষ্ঠ মহলে বেশি পরিচিত তিনি) পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পরে সিদ্দুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন শিবকুমার। তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে সময় চেয়েছেন সিদ্দারামাইয়া। কিন্তু রাজ্যপাল থাবরচাঁদ গহলৌত এখন বেঙ্গালুরুতে নেই। পারিবারিক কারণে বুধবার রাতে মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, এটা খুব একটা জটিল সমস্যা নয়। কারণ, রাজ্যপাল উপস্থিত থাকুন বা না-থাকুন, তাঁর দফতরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসা হবে।

এ দিকে আবার লোকভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কোনও সময় চাওয়া হয়নি। লোকভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যপাল শহরে নেই। মুখ্যমন্ত্রী যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, এমন কোনও বার্তা বা তথ্য লোকভবনে পৌঁছোয়নি। রাজ্যপালের অনুপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী কি তাঁর পদত্যাগপত্র লোকভবনের সচিবের হাতে দিয়ে আসতে পারেন? এ প্রসঙ্গে ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, যদি মুখ্যমন্ত্রী সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র দিতে চান, তা হলে তিনি দিতেই পারেন। তবে রাজ্যপাল পরে তাঁকে সশরীরে উপস্থিত থেকে পদত্যাগপত্র তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বলতে পারেন।

সিদ্দুর পদত্যাগের দিনক্ষণ নিয়ে কিঞ্চিৎ জটিলতা তৈরি হলেও এ দিনের প্রাতরাশ বৈঠকে তাঁর ঘোষণা কর্নাটকে প্রায় এক বছর ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটাল। ২০২৩ সালে সে রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিদ্দারামাইয়া এবং ডি কে শিবকুমারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। সে যাত্রা কংগ্রেস হাইকম্যান্ড দলিত নেতা সিদ্দুকে বেছে নিলেও শিবকুমারের শিবির দাবি করেছিল, আড়াই বছর পরে মুখ্যমন্ত্রী বদলের শর্তেই সিদ্দাকে গদি ছাড়তে রাজি হয়েছেন ডিকে। ফলে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের মেয়াদ আড়াই বছর পার হতেই শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবিতে সরব হয় তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল। কিন্তু সিদ্দার শিবির পাল্টা দাবি করে, এমন কোনও মৌখিক চুক্তিই হয়নি। সিদ্দু পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবেন।

রাজ্যে দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে এই চাপানউতরের পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছিলেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। দল গোটা দেশে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হতে বসায় আরও একটা রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই নিতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ২০২৮-এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বদল যে আখেরে দলের পক্ষে ভালই হবে, সেটা হাইকম্যান্ডকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন শিবকুমার। তার পরেও সিদ্দু এবং ডিকে-কে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা বঢরা, মল্লিকার্জুন খড়গে এবং কে সি বেণুগোপাল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দু’দিনের সেই বৈঠকে বরফ গলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি হন সিদ্দারামাইয়া।

Karnataka

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy