সাধুসন্তদের দেখা যায় আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভায়। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের ইন্ডিয়া মঞ্চের ডাকে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ জনসভায় শামিল হলেন উত্তরপ্রদেশ-বিহার থেকে আসা সাধুসন্তেরা। আইসা, এসএফআইয়ের মতো বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতানেত্রীদের সঙ্গে তাঁরা পা মিলিয়ে কনট প্লেস থেকে রামলীলা ময়দানে মিছিল করে গেলেন।
‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধীদের ডাকে জমায়েতে কেন সাধুসন্তদের ভিড়?রামলীলা ময়দানে হাজির সাধুসন্তদের অভিযোগ, যে বিজেপি ভোট চুরি করেছে, সেই বিজেপি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশে রামমন্দিরের মতো পবিত্র ধর্মস্থান থেকে চাঁদা, প্রণামী চুরি হয়েছে। সনাতন হিন্দু ধর্মের অপমান হয়েছে। তাই তার প্রতিবাদে সনাতনী সাধুসন্তেরা রাস্তায় নেমেছেন।জগদগুরু কম্পিউটার বাবা নামের এক সাধু রামলীলা ময়দানে বলেন, ‘‘সাধুসন্তদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এই দেশ সংবিধান অনুযায়ী চালাতে হবে। যদি গণতন্ত্র না বাঁচে, তা হলে সন্তসমাজ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তাই সাধুসন্তেরাও হাজারে হাজারে রামলীলা ময়দানে হাজির হয়েছেন। কিন্তু আমাদের রাস্তায় আটকানো হয়েছে। দিল্লি আসার সময়ে ট্রেন থেকে অনেক সাধুসন্তকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা অনেক সাধুকে আটকানো হয়েছে।’’ বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গেই প্রায় হাজার দশেক সাধুসন্ত রামলীলা ময়দানে এসেছেন।
সাধুসন্তদের পাশাপাশি ইন্ডিয়া মঞ্চের সমাবেশে অরুন্ধতী রায়ের মতো লেখিকাও হাজির হয়েছিলেন। আইসা সভানেত্রী নেহা বোরাকে নিয়ে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীরা রামলীলা ময়দানের মঞ্চে হাজির হওয়ার ঠিক আগে নেহা বক্তৃতা করেন। নেহা বলেন, ভবিষ্যতে যখন ভারতের ইতিহাস লেখা হবে, তখন বিজেপি-আরএসএস আবর্জনার ঝুড়িতে স্থান পাবে। বক্তৃতার পরে মঞ্চ থেকে নেমে সংগঠনের সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করতে আসায় নেহাকে মানুষের ভিড় ছেঁকে ধরে। তথ্যের অধিকার কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণেরা ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চ থেকে এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছেন।যে কোনও রাজনৈতিক সমাবেশেই রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের উদ্যোগে বাসে, ট্রাকে, গাড়িতে করে সমর্থকদের নিয়ে আসে। কিন্তু রবিবারের রামলীলায় বহু মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই হাজির হয়েছিলেন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, দিল্লি আসার সময়ে তাঁর সঙ্গে এমন অনেকের দেখা হয়েছে, যাঁরা নিজেরা টিকিট কেটে রামলীলার সভার জন্য দিল্লি এসেছেন।
দীপাবলির আগে রবিবারে রামলীলার সমাবেশের জন্য ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে বলে অভিযোগ ওঠায় রাহুল গান্ধী অনুরোধ করেছিলেন, যাঁরা জনসভায় আসবেন, তাঁরা যেন রামলীলার আশেপাশে বাজার থেকে কিছু কেনাকাটা করে ফেরেন। কিন্তু দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন কনট প্লেসের মতো বাজার রবিবার বন্ধ করে রেখেছিল বলে কংগ্রেসের অভিযোগ।