E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দিমাগি নকশাল কংগ্রেসে: মোদী

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভে সম্প্রতি আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে পাশে নিয়েই রাস্তায় হেঁটেছেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা।

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২৩
নরেন্দ্র মোদী।

নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

কংগ্রেসে ‘দিমাগি নকশালদের’ আধিপত্য চলছে বলে অভিযোগ তুলে বললেন, ‘‘যারা জঙ্গল অশান্ত করে রাখত, তারা এখন কংগ্রেসে ঢুকে দেশকে ধ্বংস করতে উঠে-পড়ে লেগেছে।’’ নাম না-করে গাঁধী পরিবারকে ‘কংগ্রেসের বোঝা’ বলে কটাক্ষ করলেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, শ্রীহরিকোটা থেকে প্রতি বছর ভারত ততগুলো রকেটও ছাড়ে না, যত বার কংগ্রেস তার ‘ব্যর্থ নেতা’কে নতুন করে মাঠে নামানোর চেষ্টা করে। বৃহস্পতিবার একটি চ্যানেল আয়োজিত সম্মেলনে নিজের বক্তৃতায় বিশ্ব পরিস্থিতির বদল নিয়ে বলতে গিয়ে কংগ্রেস, রাহুল ও তাঁর পরিবারের দিকে এ ভাবেই আক্রমণের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভে সম্প্রতি আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে পাশে নিয়েই রাস্তায় হেঁটেছেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের প্রতিবাদ কর্মসূচিও অব্যাহত। রাহুল প্রথম দিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখলেও পরে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে জেলে পাঠানোর সমালোচনা করেছেন। বিরোধী শিবিরের দাবি, তরুণ প্রজন্মের সমর্থন যে মোদী সরকার হারাচ্ছে, তা স্পষ্ট। সঙ্ঘ-বিজেপি নেতাদের একাংশ আবার দিল্লির বিক্ষোভে বিদেশি ইন্ধনের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে আজ মোদী বলেন, ‘‘পৃথিবী এখন নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে। সেখানে কিছু মানুষ ভারতে অব্যবস্থা ছড়ানোর স্বপ্নে মশগুল। বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। গ্লোবাল সাউথের কথা শোনা দরকার। বিশ্বে যখন এত সমস্যা, তখন ভারতের দৃঢ় ভাবমূর্তি তুলে ধরা জরুরি। কিন্তু এই লোকেরা ভারতের সম্মানকে মাটিতে টেনে নামাতে বদ্ধপরিকর। এঁরা বিদেশে গিয়ে ভারতের বদনাম করেন। বিদেশিদের বলেন নাক গলাতে।’’

বিদেশে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করা বা জর্জ সোরোসের মতো ধনকুবেরের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নিয়ে রাহুল ও গাঁধী পরিবারকে আগেও কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপি শিবির। এ দিন নাম না-করলেও মোদীর আক্রমণের লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস তার ব্যর্থ পণ্যটিকে ‘লঞ্চ’ করার জন্য কত বার দেশকে বাজি রাখবে, কে জানে!’’ এই সূত্রেই শ্রীহরিকোটা থেকে রকেট ‘লঞ্চ’ করার তুলনা টানেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘একটি পরিবারকে ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে ভারতের কৃতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেস। আঙুর ফল টক, তাই গাছটাই কেটে দাও! এই পরিবার এখন কংগ্রেসের বোঝা।’’ এমনকি মোদীর দাবি, একান্তে বিরোধী দলের প্রবীণ নেতারাও এই কথাটি স্বীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্মের যে বিরোধী সাংসদেরা সরকারের সমালোচক, তাঁরা বিতর্ক চান। কিন্তু কংগ্রেস তাঁদের প্রতিও অন্যায় করে। এক জন যাতে সব আলো কেড়ে নিতে পারেন, তাই অধিবেশনে বাধা সৃষ্টি করে তারা। অন্য কাউকে বাড়তে দিতে না-চাওয়া পরজীবীর সঙ্গে কংগ্রেসের তুলনা করে মোদী বলেন, ‘‘কংগ্রেসে দিমাগি নকশালদের আধিপত্য চলছে। তারা নিজেরা কিছু ভাবতে অক্ষম। জঙ্গলে যারা অশান্তি ছড়াত, তারা এখন কংগ্রেসে এসে দেশকে ধ্বংস করতে উঠে-পড়ে লেগেছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Congress AISA

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy