আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের অধিবেশন। তার আগে আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হচ্ছে না। বিজেপির সাংগঠনিক বদলও আটকে রয়েছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার পরে ছয় মাস কাটলেও ‘টিম নবীন’ তৈরি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দলের সভাপতি নিতিন নবীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক বি এল সন্তোষের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার লম্বা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল ভেঙে সাংসদরা বেরিয়ে এসে এনডিএ-তে যোগ দেওয়ায় তাঁদের দিক থেকে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার দাবি উঠেছে। এ দিকে দলের পুরনো নেতাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা না দিয়ে বহিরাগতদের মন্ত্রী করলে আপত্তি উঠবে। এমনিতেই বেশ কিছু মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সংগঠনে সরানোর ভাবনাচিন্তা চলছে। এর ফলে মন্ত্রিসভার রদবদল ও সাংগঠনিক রদবদল পুরোটাই জট পাকিয়ে গিয়েছে। সোমবার সংসদের অধিবেশন শুরুর পরে আগামী মঙ্গলবার মোদী এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
গত কাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লি এসে বৈঠক করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশের ভোটের আগে রামমন্দিরে চুরির অভিযোগের পরে সেটাই ছিল দুই নেতার দিল্লিতে প্রথম বৈঠক। এর পরেই উত্তরপ্রদেশের নতুন বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধরিকে একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হয়, গত দশ বছরের মুখ্যমন্ত্রী যোগীই আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের ভোটে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হবেন কিনা। পঙ্কজ উত্তর দিয়েছেন, বিজেপিতে সবাই মিলে একসঙ্গে ভোটেলড়ে। ভোটের পরে ঠিক হয়, কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
এই মন্তব্য নিয়ে দলের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার যোগীর সঙ্গে বৈঠকের পরে রাতে শাহ নিজের বাড়িতে নবীন ও সন্তোষের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানেও সাংগঠনিক রদবদলের জট ছাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। তার পরে তাঁরা বুধবার মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন।