উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ক্যাফেমালিক শিবা শর্মার মৃত্যুতে নয়া তথ্য উঠে এল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শিবাকে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে হেনস্থা করতেন তাঁর লিভ ইন সঙ্গী শ্রদ্ধা দুবে। আর এই কাজে সহযোগিতা করতেন শ্রদ্ধার বোন রশ্মি, তাঁদের গাড়িচালক আদিল এবং শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির। প্রভাবশালীদের ভয় দেখিয়ে শিবাকে নানা ভাবে ব্ল্যাকমলেও করা হচ্ছিল।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শিবাকে হেনস্থা করার জন্য রশ্মি, আদিল এবং আমিরের সামনে তাঁকে বিবস্ত্র করেন শ্রদ্ধা। তাঁর ছবি তোলেন। এমনকি তাঁর সারা গায়ে লিপস্টিকের দাগ লাগান। মৃত্যুর দিনই কি এই ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, চার জন মিলে শিবার উপর কয়েক ঘণ্টা ধরে অত্যাচার চালান। তাঁকে নাচতে বাধ্য করানো হয় সকলের সামনে। জেরায় শ্রদ্ধা স্বীকার করেছেন, শিবা পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তাঁকে দিয়ে নানা রকম কাজ করাতেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শিবার আপত্তিজনক ছবি তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতেন শ্রদ্ধা।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, প্রতি দিন রাতে বিভূতখণ্ডের কাছে একটি হুক্কাবারে নিজের দলবল নিয়ে যেতেন শ্রদ্ধা। সেখানে বিত্তশালীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। তার পর তাঁদের নিজের জালে ফাঁসাতেন। শিবার সঙ্গে শ্রদ্ধার এই হুক্কাবারেই প্রথম আলাপ হয়। শ্রদ্ধা এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে গ্রেফতারের পর থেকে হুক্কাবারের মালিক পলাতক। ঘটনাচক্রে, এই হুক্কাবার চালাতেন শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শিবার মৃত্যুর পর নেপালে শ্রদ্ধাদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন আমির। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। শিবা শর্মার মামলায় শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং আদিলকে আদালতে পেশ করা হলে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর রাতে ক্যাফেমালিকের দেহ উদ্ধার হয়। আবাসনের চারতলা থেকে তিনি পড়ে যান বলে দাবি। যদিও শিবার মা খুনের অভিযোগ তোলেন। তার পরই গ্রেফতার করা হয় শ্রদ্ধা, রশ্মি এবং আদিলকে।