মুম্বই বিএমডব্লিউ দুর্ঘটনায় নয়া তথ্য। যে গাড়িটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েক বার ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সে জন্য জরিমানাও হয়। উল্লেখ্য, বিএমডব্লিউ গাড়িটি সনয় গুজ্জরের। দুর্ঘটনার দিন তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মৃত তিন জনের মধ্যে তিনি রয়েছেন।
তদন্তকারী এক সূত্রের খবর, গত মাসে বান্দ্রা পশ্চিমের একটি পানশালার বাইরে মদ খেয়ে মারামারির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, ব্রিচ ক্যান্ডির কাছে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো, রাস্তা আটকানো এবং সিগন্যাল ভাঙার অভিযোগ দায়ের হয়। জরিমানা করা হলেও তা মেটানো হয়নি বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২০ অগস্ট দাভিন শর্মা, ধ্রুব গুপ্ত, গৌরব যাদব-সহ বান্দ্রার ওই পানশালায় যান গুজ্জর। রাত ১টা ৪০ মিনিটেও সেই পানশালা খোলা থাকায় পুলিশের টহলদারি ভ্যান সেখানে দাঁড়ায়। ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করে কেন এই সময়ে পানশালা খোলা রয়েছে? ম্যানেজারকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুজ্জরেরা পুলিশকর্মীদের বাধা দেন। এক পুলিশকর্মীর সঙ্গে হাতাহাতি করেন বলেও অভিযোগ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ২২১ নম্বর ধারায় ওই চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২৮ মার্চেও বিএমডব্লিউ নিয়ে ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগ ওঠে গুজ্জরের বিরুদ্ধে। ওঙ্কার শিরকে নামে এক ব্যক্তি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ব্রিচ ক্যান্ডি থেকে মহালক্ষ্মীর দিকে যাওয়ার সময় একটি বিএমডব্লিউ বেপরোয়া ভাবে ছুটছিল। মহালক্ষ্মী মন্দিরের কাছে গাড়ি থামিয়ে চালককে প্রশ্ন করেন কেন এ ভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন, তখন চালক তাঁর সঙ্গেই গন্ডগোল শুরু করে দেন বলে অভিযোগ। গামদেবী থানায় বিএএসের ১২৫ এবং ২৮১ নম্বর ধারায় এবং ট্রাফিক আইনের ১৮৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ভোরেও বিএমডব্লিউ চালাচ্ছিলেন গুজ্জর। তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন কি না তা জানার জন্য রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেই রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায় মেরিন ড্রাইভ থেকে ফিরছিলেন গুজ্জর-সহ চার জন। ইস্ট ক্যানাল রোডের কাছে সেটি বাঁক নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। ওই রাস্তায় গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার থাকার কথা। কিন্তু তদন্তকারী সূত্রের খবর, ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটছিল বিএমডব্লিউ। তার পরই সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা মারে। তার পর উড়ালপুলের রেলিংয় ধাক্কা মেরে উপর থেকে ৭৫ ফুট নীচে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় চালক গুজ্জর তিন জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এক জন।