মাছে-ভাতে রাজনীতি। তা-ও আবার উত্তরপ্রদেশে। ‘মৎস্য ভোজন’ নিয়ে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের তুলকালাম শুরু হয়েছে সেখানে। মাছ আমিষ না কি নিরামিষ— চলছে চুলচেরা বিচার।
কংগ্রেসের নেতারা অযোধ্যায় হনুমানগড়ী মন্দিরে গিয়ে পুজো দেওয়ার পরে মাছ-ভাত খেয়েছেন বলে আজ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রায়বরেলীতে রাহুলের লোকসভা কেন্দ্রে গিয়ে যোগীর অভিযোগ, গত পরশু রাহুল মনুস্মৃতির সমালোচনা করে দেশের ঐতিহ্যকে অপমান করেন। আর গত কাল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই অযোধ্যায় মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরে মৎস্যভোজে যোগ দেন। অজয়ের পাল্টা, নিষাদ মাঝি-মাল্লা, মৎস্যজীবী সমাজের নেতারা তাঁকে অযোধ্যার সভায় আমন্ত্রণ জানান। তাঁরা সেখানে মাছ রান্না করে থাকতে পারেন। তবে যোগী তাঁর মাছ খাওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়বেন।
উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধরির প্রশ্ন, শ্রাবণ মাসে অনেক সনাতনী হিন্দু মাছ-মাংস খান না জেনেও কেন কংগ্রেস নেতারা মাছ খেলেন? কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা বলেন, ‘‘এখন অযোধ্যা উচ্চারিত হলেই রামমন্দিরে প্রণামী চুরির কথা মানুষের মনে পড়ে যাচ্ছে। বিজেপি নজর ঘোরাতে মাছ-বিতর্ক তৈরি করছে। অজয় রাই নিরামিষাশী। আর নিষাদরা যদি মাছ রান্না করে থাকেন, কার কিসের আপত্তি?’’ অযোধ্যার নিষাদ সমাজের নেতা রাম নিষাদ কংগ্রেসে যোগদান উপলক্ষে মৎস্যভোজের আয়োজন করেছিলেন। রামের বক্তব্য, ‘‘নিষাদ সমাজের অধিকার মাছ ধরা, মাছ রান্না করে খাওয়া। এতে কে আপত্তি তুলতে পারে?” সমস্যায় পড়েছেন নিষাদ পার্টির নেতা, উত্তরপ্রদেশের মৎস্যমন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদ। তাঁর যুক্তি, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া মাছ রান্না হলে তা নিরামিষ।