মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে দলের নেতাদের চরম ক্ষোভ ও কার্যত বিদ্রোহের পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বিবাহিত জীবন শুরু করলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেছিলেন ওমর। তবে তা নিয়ে দলের বিধায়কদের একটা বড় অংশের ভিতরে এতটাই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে যে তাঁরা এখন গোটা মন্ত্রিসভারই ইস্তফা চাইছেন। এরই মধ্যে শ্রীনগরের সাংসদ আগা রহুল্লা মেহেদি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আগামী ৩ নভেম্বর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন। ওই দিন দল থেকেও সরে দাঁড়াবেন তিনি। ওমরের নাম না করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মেহেদি সরকার পরিচালনায় পরিবারতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর পুনর্বহালের দাবি করেছিলাম, বন্দিমুক্তির দাবিও ছিল। এই সব কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের বোকাবানানো হয়েছে’।
সূত্রের খবর, শ্রীনগরের সাংসদই শুধু ক্ষোভ জানাননি, গত কাল লোলাব কেন্দ্রের বিধায়ক কাইসার জামসাইদ লোনের বাসভবনে ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্তত এক ডজন বিধায়ক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বিক্ষুব্ধদের ওই বৈঠকে অনেকে অনলাইনেও যোগ দিয়েছেন। সূত্রের দাবি, ওই বিধায়কেরা দাবি করছেন, গোটা মন্ত্রিসভা ইস্তফা দিক। তার পরে বাছাই করে নতুন মন্ত্রীদের নেওয়া হোক। এর পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা নাসির আহমেদ ওয়ানির ইস্তফার দাবিও তুলছেন তাঁরা।
দলের এই চরম সঙ্কটের মধ্যেই আজ মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নতুন করে বিবাহিত জীবন শুরু করার কথা জানিয়েছেন। ওমরের প্রথম স্ত্রী পায়েলের সঙ্গে এই বছরের জুলাই মাসে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এ বার সাংবাদিক নিধি রাজদানকে বিয়ে করলেন ওমর। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আজ সমাজমাধ্যমে তাঁদের নতুন বিবাহিত জীবন শুরু করার কথা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের ছবিও পোস্ট করেছেন তাঁরা। নিজেদের ছবি পোস্ট করে এক্স হ্যান্ডলে ওমর লিখেছেন, ‘গত কালই নতুন যাত্রার শুরু হয়েছে’। আর নিধি লিখেছেন, ‘কাজটা হয়েই গেল’। সূত্রের খবর, গত কাল বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে দু’জনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।