E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘আদানির রেহাই নিয়ে সওদা’

আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগের এ বার নিষ্পত্তি হতে চলেছে। আমেরিকার বিচার বিভাগ আদানিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০৯:৫৫
গৌতম আদানি।

গৌতম আদানি। — ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের পরে আচমকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ায় কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল, শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকায় প্রতারণার মামলার চাপ দিয়েই ট্রাম্প মোদীকে বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘আপস’ করে ফেলেছেন।

আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগের এ বার নিষ্পত্তি হতে চলেছে। আমেরিকার বিচার বিভাগ আদানিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতে রাহুল ফের অভিযোগ তুললেন, ‘‘আপস করে ফেলা প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য চুক্তি নয়। আদানির রেহাইয়ের সওদা করেছিলেন।’’

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মোদী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, আগামী মাসে আমেরিকার একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে দিল্লি আসবে। বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেন, ‘‘ভারত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছে।’’ তাঁর ইঙ্গিত, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দর কষাকষি চলবে। কিন্তু চুক্তি রূপায়ণের জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা হবে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কেন ভারত-আমেরিকার একতরফা বাণিজ্য চুক্তি মেনে নিয়েছিলেন, তা এখন স্পষ্ট। আসলে চুক্তিটা আমেরিকার পক্ষে একতরফা সওদা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী আর কত আপস করবেন?

আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমেরিকায় অভিযোগ ছিল, আদানিরা ভারতে ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ চুক্তি আদায় করেছিলেন। তা লুকিয়ে রেখে আদানিরা আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের থেকে টাকা তোলেন। এর বিরুদ্ধে আমেরিকার শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিয়োরিটিজ় ও এক্সচেঞ্জ কমিশন মামলা করেছিল। আমেরিকার বিচার বিভাগও মামলা দায়ের করেছিল। বৃহস্পতিবার কমিশন গৌতম আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে মামলার নিষ্পত্তি করে ফেলেছে। বিনিময়ে গৌতম আদানি ৬০ লক্ষ ডলার ও সাগর আদানি ১ কোটি ২০ লক্ষ ডলার দিতে রাজি হয়েছেন। মোট ১ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার মেটাতে রাজি হলেও তাঁরা কোনও গাফিলতি স্বীকার করেননি। বিচার বিভাগও আদানিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নিচ্ছে।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আদানি গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম আইনজীবী রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রকে মামলা লড়ার জন্য নিয়োগ করেছিল। আদানিরা আমেরিকায় ১ হাজার কোটি ডলার লগ্নি করতে রাজি হয়েছে। যার ফলে আমেরিকায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কংগ্রেসের অভিযোগ, আদানিরা এ দেশের ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার বা ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আমেরিকায় লগ্নি করবেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Narendra Modi Rahul Gandhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy