আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন, যেটিকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ‘সেমিফাইনাল’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর এই নির্বাচনের অন্তত চার মাস আগে অর্থাৎ অক্টোবরেই নিজেদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে, ঘোষণা করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এসপি নেতা অখিলেশ যাদব। সম্প্রতি লখনউয়ে তাঁর ডাকা জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে এইসিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের ৪০৩টি আসনেই লড়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে এসপি। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, জেলা সভাপতিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেসের সঙ্গে লোকসভা ভোটের জোটের খাতিরে কোন কোন আসন ছাড়া যায়। সর্বসম্মত জবাব, কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্বই নেই উত্তরপ্রদেশে যে আসন ছাড়তে হবে। তবে বিষয়টিতে পূর্ণচ্ছেদ না টেনে স্থির হয়েছে, অখিলেশ রাহুল গান্ধীদের কাছে জানতে চাইবেন, তাঁরা যদি আসন সমঝোতা করতে চান তবে কোন কোন আসন তাঁরা চাইছেন এবং সেখানে তাঁদের কী সংগঠন রয়েছে। খুব বেশি আসন কোনও দলকেই ছাড়ার প্রশ্ন নেই বলে জানাচ্ছেনএসপি নেতৃত্ব।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে অখিলেশ নিয়মিত সমাজমাধ্যমে সমর্থন করে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলাফলের পরে তিনি গিয়েছেন মমতার বাড়ি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের ভোটে প্রচারের জন্য তৃণমূল নেত্রী কেন, বাইরের কাউকেই ডাকা হবে না, এটাই দলের সিদ্ধান্ত। ‘পিডিএ’-র জাতি সমীকরণে জোর দেওয়ার লক্ষ্যে, প্রতিটি জেলায় পিডিএ সম্মেলন শুরু করে দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে দলীয় সূত্র। ‘পিডিএ’ অর্থাৎ পিছড়ে বর্গ, দলিত এবং অল্পসংখ্যক। এই বন্ধনীর মাধ্যমে সব সম্প্রদায়কে ধরা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ব্রাহ্মণকেও অল্পসংখ্যকের মধ্যে ধরা হচ্ছে যদিও এই সম্প্রদায় রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ। ২২-এর বিধানসভা ভোটেও এরা বিজেপি-র সঙ্গে ছিল। কিন্তু যোগী আদিত্যনাথের জমানায় ব্রাহ্মণ হত্যা এবং নিপীড়নের অভিযোগ বেড়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ঠাকুর বনামব্রাহ্মণের জাতিদ্বন্দ্ব ।
এসপি নিজস্ব জাতিভিত্তিক জনগণনাও করেছে, সেই অনুযাযী প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুথভিত্তিক রণনীতি তৈরি করা, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া, তাঁদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অখিলেশ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, এসআইআর-এর ফলে যে ভাবে বিহার বা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি লাভবান হয়েছে তা উত্তরপ্রদেশে ঘটবে না। উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিছুই নেই। অনুপ্রবেশ, রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার মতো বিষয় নেই। এখানকার মুসলিমদের বসবাস সেই মুঘল আমল থেকে। দ্বিতীয়ত উত্তরপ্রদেশে বহু মানুষের দু’টি করে ভোটার কার্ড আছে, একটি শহরে ও একটি গ্রামে। গত ৮ বা ৯ বছরে বহু মানুষ গ্রাম থেকে শহরে চলে এসেছেন, দু’জায়গাতেই তাঁদের কার্ড রয়েছে। কিন্তু এসপি-র দাবি, তারা সমীক্ষা করে দেখেছে যে এঁরা বেশির ভাগ বিজেপি-রই সমর্থক, স্থানীয় নেতার মদতে যা করার করেছেন। ফলে নাম বাদ যাঁদের গিয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই বিজেপি ভোটার। যোগীর টানা শাসনের ফলে মানুষের মধ্যে স্থিতাবস্থা-বিরোধিতাও তৈরি হয়েছে এবং যার লাভ পাবে বলে আশা করছে অখিলেশের দল।