E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রামমন্দিরে বিতর্ক বাড়িয়ে গণইস্তফা ২৩ জন কর্মীর

রামমন্দির বিতর্কের মধ্যেই আজ অযোধ্যায় সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে যান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ওই চুরি কাণ্ড সামনে আসার পর থেকে টানা এক মাস ধরে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে চলেছে বিরোধী এসপি ও কংগ্রেস।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪১

—প্রতীকী চিত্র।

ভক্তদের দেওয়া অনুদানের বিপুল টাকা চুরির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না রামমন্দিরের। ওই মন্দিরের অনুদানের টাকা চুরি কাণ্ডে গত এক মাস ধরে উত্তাল গোটা দেশ। এই আবহে এক দিকে কাজের সময় বাড়িয়ে দেওয়া ও অন্য দিকে বেতন কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অনুদানের অর্থ গোনার দায়িত্বে থাকা ৩৬ জনের মধ্যে ২৩ জন নিজেদের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন! এ দিকে রামমন্দিরের চুরির তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবি উঠেছে। সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হতে চলেছে। বর্তমানে ওই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের নিয়োগ করা বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)।

রামমন্দির বিতর্কের মধ্যেই আজ অযোধ্যায় সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে যান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ওই চুরি কাণ্ড সামনে আসার পর থেকে টানা এক মাস ধরে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে চলেছে বিরোধী এসপি ও কংগ্রেস। এতে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে দলের হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরেই মেরুকরণের রাজনীতির সুর আরও চড়া করতে আসরে নেমেছেন যোগী আদিত্যনাথ। রামমন্দিরের ক্ষত মেরামতিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি উদ্ধারের দাবি জানানোর পরে আজ অযোধ্যায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন ২০০৩ সালে এসপি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব রামমন্দিরের বিতর্কিত কাঠামোর পাশে থাকা হনুমানগড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে নমাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন যোগী। তিনি সেই ‘পাপে’র জন্য দুই বিরোধী দলকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান। বার্তা স্পষ্ট, বিরোধীরা যখন রামমন্দিরের চুরি কাণ্ডে সরকারকে কোণঠাসা করছে, তখন পাল্টা বিরোধী দলগুলির সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিকে কাঠগড়ায় তোলার কৌশল নিয়ে হিন্দু ভাবাবেগকে উস্কে দিতে চাইছেন যোগীরা।

আজ অযোধ্যায় উপস্থিত ছিলেন রামমন্দির নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নৃপেন্দ্র মিশ্র। আজ মন্দির কমিটির পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সূত্রের মতে, মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নৃপেন্দ্রকে মন্দির কমিটির চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও তা হলে মন্দিরের দৈনন্দিন কাজে সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, এই আশঙ্কায় নৃপেন্দ্রের নামে আপত্তি রয়েছে আরএসএসের একাংশের।

মন্দিরে চুরি কাণ্ডে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই টাকা গোনা ও সেই অর্থ ব্যাঙ্কে পৌঁছে দেওয়া দায়িত্বে ছিলেন। চুরি কাণ্ড সামনে আসায় টাকা গোনার কাজে বাকি যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কাজের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পরেই আজ মন্দিরে ওই কাজের ভারপ্রাপ্ত ২৩ জন কর্মী ইস্তফা দেন। যদিও মন্দিরের একটি সূত্রের দাবি, টাকা গোনার দায়িত্ব থাকাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের মন্দিরের অন্য কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়। গণইস্তফারসেটিও একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Ram Mandir

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy