E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

৭ দিন, ২ ঘূর্ণিঝড়, ফিরবে কি ২০১৩

উষ্ণায়নের জেরে ঘূর্ণিঝড়ের উপদ্রব যে বাড়বে, সে কথা বারবারই আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:১৩
উত্তাল সমুদ্র।

উত্তাল সমুদ্র। —ফাইল চিত্র।

সাত দিনের ব্যবধানে ফের অন্ধ্রপ্রদেশে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতেই অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোলের কাছাকাছি আছড়ে পড়বে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তামিল ভাষায় যার অর্থ ডঙ্কা। ঝড়ের নাম ভারতেরই দেওয়া। আছড়ে পড়ার সময় প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি ১০০-১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের নিরিখে মুরাসু মারাত্মক কিছু না-হলেও আবহবিদদের অনেকেই বলছেন, আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগরে একটি অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সাত দিনের মধ্যে ফের একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া মোটেও ভাল লক্ষণ নয়। উষ্ণায়নের জেরেই এমন ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পরপর ঝড় আগামী দিনে বড় বিপদের আভাস দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বস্তুত, উষ্ণায়নের জেরে ঘূর্ণিঝড়ের উপদ্রব যে বাড়বে, সে কথা বারবারই আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল। অতীতেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে। সাধারণত, ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হতে হয়। আবহবিজ্ঞানীদের অনেকেই বলছেন, ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় তৈরি এবং তার দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির বেশি আছে। আবহাওয়া দফতরের এক প্রাক্তন কর্তার কথায়, ‘‘ভৌগোলিক এবং আবহাওয়াজনিত কারণেই আরব সাগরের তুলনায় বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির আশঙ্কা জোরালো থাকে। তবে সাত দিনের মধ্যে পরপর দু’টি ঘূর্ণিঝড় কিছুটা বিরলই।’’

ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্রে আছড়ে পড়লেও তার প্রভাব কিন্তু বঙ্গেও দেখা যাচ্ছে। চেনা হেমন্তের আবহাওয়া বদলে গিয়ে ভ্যাপসা গরম ফিরেছে। কলকাতা-সহ নানা জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। তবে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের আশ্বাস, আগামিকাল, বুধবার থেকে কালীপুজো পর্যন্ত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।

এই পরপর ঘূর্ণিঝড় যে উষ্ণায়নেরই প্রভাব তা-ও অবশ্য এক কথায় মানতে নারাজ মৌসম ভবনের বিজ্ঞানীদের অনেকে। তাঁদের মতে, অক্টোবর-নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় তৈরির মরসুম। ঘূর্ণিঝড় তৈরির পিছনে সমুদ্রজলের উষ্ণতা ছাড়াও আরও বায়ুপ্রবাহের দুই স্তরে তাপমাত্রার ফারাক, বায়ুপ্রবাহের ফারাক ইত্যাদি প্রয়োজন। তবে গত প্রায় তেরো বছরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির মাত্রা যে বেড়েছে, তা-ও মেনে নিয়েছেন তাঁরা। আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, ২০১৩ সালে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, এই সময়কালে বঙ্গোপসাগরে ৪টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে একটি (ঘূর্ণিঝড় পাইলিন) ছিল মারাত্মক প্রবল ঘূর্ণিঝড়। একের পর এক ঝড়ে বিপর্যস্ত ছিল দেশের পূর্ব উপকূল। তার পর থেকে একাধিক বার অক্টোবর-নভেম্বরে বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর মিলিয়ে তিন-চারটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে দেখা গিয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে পরপর চারটি ঘূর্ণিঝড় আর দেখা যায়নি।

এ বার অক্টোবরের শেষ-নভেম্বরের শুরুতেই ইতিমধ্যেই দু’টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে বঙ্গোপসাগরে। ঘূর্ণিঝড়ের মরসুম শেষ হতে এখনও দেড় মাস বাকি। অনেকেরই প্রশ্ন, এ বার বঙ্গোপসাগর ২০১৩ সালের পরিসংখ্যানে ফিরবে?

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Andhra Pradesh Cyclone

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy