এনসিপিআই-এর পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এখনও বিশ বাঁও জলে। তা না পাওয়া পর্যন্ত খাতায় কলমে এঁরা সাংসদরা তৃণমূলেরই। সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনী বিলে ভোট হলে সরকারের সংখ্যা প্রয়োজন হলেও, এখনই এই ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের হুইপ অমান্য করে ভোট দিতে পারবেন না। তা দিলে তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, লোকসভার সচিবালয় থেকেই এনসিপিআই-এর এক শীর্ষ সাংসদকে এ কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ধ্বনিভোটের ক্ষেত্রে খুব সমস্যা নেই। কিন্তু বোতাম টিপে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে হুইপ অমান্য করা যাবে না।
এক পক্ষকাল আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিজিজু তখনই বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে উদ্ধব শিবসেনার ৬ জন সাংসদের একনাথ শিন্দের শিবসেনায় মিলে যাওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়া অপেক্ষা মাত্র। সেই রায় এলে, সেই দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে তৃণমূলত্যাগীদেরও নতুন পরিচয়, প্রতীক এবং বসার ব্লক দেওয়া হবে। তাঁরা সরকারি ভাবে এনডিএ-র শরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
কিন্তু আজ লোকসভার স্পিকার ও যুগ্ম সচিবের তরফ থেকে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় সুপ্রিম কোর্ট উদ্ধবপন্থী শিবসেনার সাংসদদের মামলার শুনানি দু’সপ্তাহের জন্য মুলতুবি করেছে।
সূত্রের বক্তব্য, লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভায় তৃণমূল সাংসদ, বিধায়কদের কোনও না কোনও ভাবে বিজেপির সঙ্গে সংযুক্ত করায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা-কর্মীদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আপাতত প্রশমিত করতে চাইছেন দলীয় নেতৃত্ব। এই অধিবেশনে তো বটেই, আপাতত বিশেষ অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর সম্ভাবনা নেই। তাই বিজেপি নেতৃত্বের যে খুব তাড়া রয়েছে এনসিপিআই-কে আইনগত ভাবে এনডিএ-র বৈধ শরিক হিসাবে মান্যতা দেওয়ার, এমনও নয়। ফলে এনসিপিআই-এর সাংসদদের ‘সসেমিরা’ অবস্থাই বহাল থাকবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এনসিপিআই-এর ভিতরেও উপদল তৈরি করা তিন সংখ্যালঘু সাংসদ (তাঁরা কালও স্পিকারের ডাকা এনডিএ মঙ্গল-মিলন বয়কট করবেন) ইউসুফ পাঠান, আবু তাহের এবং খলিলুর রহমানরা অস্থির হয়ে বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন। প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মুর্শিদাবাদে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ করেছিলেন। আজ তাহের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে কৃষ্ণনগর থেকে মুর্শিদাবাদ রেল সংযোগের দাবি জানান এবং অসিত মাল বর্ধমান থেকে রামপুরহাট লোকাল ট্রেন বাড়ানোর দাবি করেন। খলিলুর কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়ের কাছে দাবি জানান, জঙ্গিপুরে ইপিএফও-র আঞ্চলিক অফিস খোলা হোক। তবে তাঁদের এনসিপিআই নেতৃত্বের পরামর্শ, ‘লেবু কচলে তেতো করবেন না!’