E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নয়া বিলে শঙ্কায় আইএসআইয়ের ভবিষ্যৎ

আইএসআই-এর শিক্ষকদের আশঙ্কা, দেশ জুড়ে আইএসআই-এর বিভিন্ন কেন্দ্র থাকলেও সদর দফতর কলকাতাতেই ছিল।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪০
আইএসআই কলকাতা।

আইএসআই কলকাতা। ফাইল চিত্র।

প্রেসিডেন্সি কলেজের স্ট্যাটিসটিক্সের ল্যাবরেটরিতে ৯৫ বছর আগে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বরাবরই দেশের অন্যতম সেরা এই গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর কলকাতায়, বরাহনগরে। কিন্তু ভবিষ্যতে এই সদর দফতর কলকাতায় থাকবে কি না, তা নিয়ে আইএসআই-এর শিক্ষক, গবেষক, পড়ুয়াদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে আইএসআই-এর পরিচালন ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে নতুন বিল আনতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের ‘দ্য ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বিল’-এ আইএসআই-এর সদর দফতর কলকাতায় রাখার কোনও উল্লেখই নেই! অথচ গত বছরের শেষে এই বিলে মতামত চেয়ে যে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে অন্তত উল্লেখ ছিল যে, আইএসআই-এর সদর দফতর কলকাতায়।

আইএসআই-এর শিক্ষকদের আশঙ্কা, দেশ জুড়ে আইএসআই-এর বিভিন্ন কেন্দ্র থাকলেও সদর দফতর কলকাতাতেই ছিল। কিন্তু মোদী সরকার এখন আইএসআই-তে আইআইটি, আইআইএম ধাঁচের পরিচালন ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে। তার ফলে কলকাতায় সদর দফতর থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এত দিন আইএসআই-এর শিক্ষাবিদেরাই সংস্থা পরিচালনা করতেন। আইএসআই-এর পরিচালন পরিষদে ডিরেক্টর, অধ্যাপকেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার যে বিল আনছে, তাতে আইএসআই-এর পরিচালন সংস্থায় ডিন-কেই রাখা হয়নি! অথচ খসড়া বিলে তাঁকে পরিচালন সংস্থায় রাখা হয়েছিল।

যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকে অভিযোগ উঠেছিল, মোদী সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছে। লোকসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী নয়, শিক্ষা মন্ত্রকে ওএসডি হিসেবে নিযুক্ত আরএসএসের লোকেরা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করছে। আইএসআই-এর শিক্ষকেরা মনে করছেন, নতুন বিল পাশ হলে শিক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব স্তরের আমলারাই আইএসআই নিয়ন্ত্রণ করবেন। ফলে স্বশাসন খর্ব হবে। রাহুল গান্ধী আগেই ঘোষণা করেছেন, আইএসআই পরিচালনায় জওহরলাল নেহরুর আমলের আইন বাতিল করে মোদী সরকার নতুন আইন আনছে, কারণ এর পাঠ্যক্রম ও গবেষণাকে আরএসএস তার মতাদর্শ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের যুক্তি, আর এ মাশেলকরের নেতৃত্বে চতুর্থ আইএসআই পর্যালোচনা কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন আইএসআই-এর কাঠামোগত সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছে। যাতে ২০৩১-এ প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষে আইএসআই বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আইএসআই বছরে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি নেয়, যেখানে আইআইটিগুলিতে বছরে ২,৫০০ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হন। আইএসআই শিক্ষকদের যুক্তি, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বজায় রেখে পড়ুয়া বাড়াতে হলে আইন বদলের প্রয়োজন নেই। আইএসআই-কে আইআইটি, আইআইএম-এর ধাঁচের প্রতিষ্ঠান করতে হলে মৌলিক গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ নিয়ে পরিসংখ্যান মন্ত্রক আইএসআই-এর কোনও স্তরে আলোচনা করেনি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
ISI Kolkata

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy