সপ্তাহের প্রথম তিন দিন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। ব্যাঙ্ক কর্মী-আধিকারিকেদের সাতটি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস্ (ইউএফবিইউ) রবিবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, আপাতত ধর্মঘট হচ্ছে না। ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার পর্যন্ত ব্যাঙ্ক খোলাই থাকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেন সংগঠনটি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল?
ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-এর সঙ্গে রবিবার রাতে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেছিল ইউএফবিইউ। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সেই বৈঠক শুরু হয় বলে খবর। ইউএফবিইউ জানিয়েছে, ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের দাবিগুলি সম্পর্কে তারা নির্দিষ্ট কিছু আশ্বাস পেয়েছে। সেই কারণেই আপাতত ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হল। দাবি পূরণের জন্য আলোচনা হবে। তবে এর পরেও দাবি না-মানা হলে আগামী দিনে আবার আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে কর্মী সংগঠনটি।
আরও পড়ুন:
ব্যাঙ্ক কর্মীদের মূল দাবি, সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ এবং দু’দিন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। এমনিতে প্রতি মাসের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্মীরা রবিবারের পাশাপাশি প্রতি শনিবারই ছুটি চান। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি ঝুলে আছে। সম্প্রতি তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার ছুটি ছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন, মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত কিছু দাবিকে সামনে রেখে তিন দিনের ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। রবিবার রাতের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাসের সব শনিবার ছুটি ঘোষণা করার দাবিটি খতিয়ে দেখার জন্য আইবিএ এবং ইউএফবিইউ-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে এর সম্ভাব্য বিকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গেই কথা বলা হবে তা নিয়ে।
ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বার্থের দিকটিও মাথা রাখা দরকার, মনে করে ইউএফবিইউ এবং আইবিএ। ফলে সব দিক বিবেচনা করে একটি সমাধান খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে। এমন সমাধান, যা সব পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ব্যাঙ্ক কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত যে সমঝোতা হয়েছিল, সেখানেও অন্যতম প্রস্তাব ছিল প্রতি শনিবার ছুটির বিষয়টি। কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই যত দিন এগিয়েছে, ব্যাঙ্ক কর্মীদের ক্ষোভ বেড়েছে।
ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির অপর একটি দাবি হল, স্কেল ৪ এবং তার উপরের পদমর্যাদার আধিকারিকদের জন্য কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে ইনসেন্টিভ (পিএলআই) চালু করা। ইউএফবিইউ জানিয়েছে, আইবিএ-র সঙ্গে পিএলআই সংক্রান্ত আলোচনা এ বার শুরু করা যেতে পারে। রাতের বৈঠকে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।