গত বছরে দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রথম বার ৯০.২৩ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন নীরজ চোপড়া। যদিও রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। যদিও তার পরে সোনা বা রুপো অধরাই রয়ে গিয়েছে নীরজের। কমনওয়েলথ গেমসে ফের এক বার নীরজ পদকের লক্ষ্যে নামবেন। তার আগে অলিম্পিক্সে দু’বারের পদকজয়ী জানিয়ে দিলেন, ৯০ মিটারের থেকেও তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সোনা জেতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এক প্রশ্নের উত্তরে নীরজ বলেছেন, “৯০ মিটার ছুড়তেই হবে, এই বিষয়টি নিয়ে আমি সে রকম মাথা ঘামাচ্ছি না। ফলে কোনও বাড়তি চাপ নেই। তবে এক জন অ্যাথলিট হিসেবে আমি সবসময় বেশি দূরত্বে ছুড়তে চাই।” এর পরে যোগ করেছেন, “বড় প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা অ্যাথলিটদের হারিয়ে সোনা জেতাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দূরত্ব পরের বিষয়।”
২৮ বছরের ভারতীয় অ্যাথলিট স্বীকার করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে আবহাওয়া এবং অন্যান্য বহিঃপ্রভাবকও লম্বা দূরত্বের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে সব রকম পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। “অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রত্যাশিত দূরত্ব ছোড়া যায় না। সে ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভাবে পারফরম্যান্স করে যাওয়াই আসল পরীক্ষা। ফলে ধারাবাহিকতার পাশাপাশি নিজের দূরত্ব উন্নত করাও আমার প্রধান লক্ষ্য,” বলেছেন ভারতের সোনার ছেলে।
২০১৮ সাল গোল্ড কোস্টে সোনা জিতে প্রথম বার নজরে আসেন নীরজ। সে বার ৮৬.৪৭ মিটার ছুড়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। এর পরে টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ৮৭.৫৮ মিটার ছুড়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে জ্যাভলিনে সোন জেতেন নীরজ। দু’বছর পরে জ়ুরিখে ডায়মন্ড লিগ ফাইনালে ৮৮.৪৪ মিটার ছুড়ে পেয়েছিলেন সোনা। এশিয়ান গেমস এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদকে দ্যুতি ছড়ালেও ৯০ মিটার যেন দূরের লক্ষ্য হয়েই ছিল। সেই মাইলফলক স্পর্শ করেন দোহাতে। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে সেই ‘ব্যক্তিগত সেরা’-র মাপকাঠি বাড়ানোর দিকেও নজর রয়েছে নীরজের। তাঁর কথায়, “আমি অবশ্যই আমার ব্যক্তিগত থ্রো আরও উন্নত করতে চাই।”
নীরজের এই লড়াই মোটেও সহজ হবে না। কারণ তঁকে লড়তে হবে পাকিস্তানের আর্শাদ নাদিম এবং শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগের বিরুদ্ধে। চার বছর আগে বার্মিংহামে সোনা জিতেছিলেন আর্শাদ। সেই প্রতিযোগিতায় চোটের কারণে খেলতে পারেননি নীরজ। সদ্য দোহা ডায়মন্ড লিগে ৯২.৬২ মিটার ছুড়ে নতুন নজির গড়েছেন রুমেশ। ফলে তাঁরা কমনওয়েলথ গেমসেও পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন। এই প্রসঙ্গে নীরজ বলেছেন, “এই প্রতিদ্বন্দ্বিতর বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। প্রতিযোগিতা যত কঠিন হবে, তত আমরা পরস্পরের দিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারব। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিযোগিতার মান অনেকটাই বেড়েছে।”
প্রতিযোগিতার দিনে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তিনি মানসিক ও শারীরিক—দু'দিক থেকেই প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “শনিবারে অনুশীলনে কিছু থ্রো করেছি। পরিস্থিতি কঠিন হবে। তবে সবার জন্য তা একই রকম। আবহাওয়া যেমনই হোক, আমাদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেরাটা দিতে।”
নিজের ফিটনেস নিয়েও আশাবাদী নীরজ। তিনি বলেন, "এখন আমি অনেকটাই ভাল আছি। চোট সারিয়ে দোহায় প্রথম প্রতিযোগিতায় নেমেছিলাম এবং ভাল ফল পেয়েছি। নিজের দুর্বলতা ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।”