উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক বেকারিতে অভিযান চালিয়ে সাত নাবালক-সহ ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করল প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। জেলা শ্রম দফতরের যুগ্ম কমিশনার বলদেব মণ্ডলের দাবি, ১২ জনের মধ্যে এক জনশিশু-শ্রমিক, যার বয়স ১৪ বছরের কম। ছ’জন শ্রমিকের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে এবং বাকি পাঁচ জনের বয়স ১৮ বছরের বেশি। তিনি বলেন, ‘‘ওই বেকারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। বাকিদের বাড়ি মালদহ ও মুর্শিদাবাদে। বেকারির মালিকানার একাধিক অংশীদার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক জন অজ্ঞাতপরিচয়। রায়গঞ্জ পুলিশ-জেলার সুপার কুলদীপ সোনওয়ানে জানিয়েছেন, মালিকদের পাশাপাশি, বেকারির ম্যানেজার প্রতাপ দেব, জয়ন্ত সাহা, শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার কিরণ কুমার ও সন্দীপ রবিদাসের বিরুদ্ধে বন্ধকী শ্রমিক, শিশু-শ্রম বিরোধী ও শিশুসুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।’’ পাউরুটি, বিস্কুট, ক্রিমরোল তৈরির ওই বেকারির অন্যতম মালিক পবিত্র ঘোষ বলেন, ‘‘ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ করি। শ্রমিকদের বয়স দেখা সম্ভব হয় না।’’
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অভিযোগের ভিত্তিতে বাহিন পঞ্চায়েতের চাপদুয়ারের ওই বেকারিতে জেলা প্রশাসনের মানবপাচার বিরোধী টাস্ক ফোর্সের অভিযান চলে। দলে জেলা পুলিশ, শ্রম দফতর, স্বাস্থ্য দফতর, শিশুসুরক্ষা দফতর, জেলা আইনি পরিষেবা দফতরের আধিকারিকেরা ছিলেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার জবা মণ্ডলের অভিযোগ, ওই বেকারিতে নাবালক শ্রমিকদের ময়দা বহন, যন্ত্র চালানো, পাউরুটি তৈরির মতো কাজ করানো হত। অতীতে অনেক শ্রমিক সেখানে আগুনে ঝলসে ও রাসায়নিকের গন্ধে জখম ও অসুস্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ। তা ছাড়া, পরিবারকে আগে চার-পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শিশু শ্রমিকদের বন্ধকী শ্রমিক হিসেবে কাজ করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জবা বলেন, ‘‘ওই বেকারিতে এক সময়ে ৫০ জনেরও বেশি নাবালক শ্রমিক ছিল বলে আমাদের কাছে খবর ছিল।’’ জেলা শিশুসুরক্ষা আধিকারিক অসিতরঞ্জন দাস জানিয়ছেন, নাবালক শ্রমিকদের জেলা শিশুকল্যাণ সমিতির অধীন হোমে পাঠানো হয়েছে।