বর্ধমান শহরের জনবহুল এলাকা থেকে পাক জঙ্গি যোগ সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এসটিএফ সূত্রে খবর, হামিম মণ্ডল নামের ওই যুবক পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত। গ্রেফতারির পর শুক্রবারই হামিমকে বর্ধমান আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত ধৃতের ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। বর্ধমান থেকে হামিমকে কলকাতায় এসটিএফ দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে জেরার জন্য।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, হামিমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কুসুমগ্রামে। হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি রেডিমেড জামাকাপড় তৈরির কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করতেন তিনি।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের সঙ্গে যুক্ত হন হামিম। এই পেজটি মূলত পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানের কুখ্যাত ‘গ্যাংস্টার’ শাহজ়াদ ভাট্টি গোষ্ঠীর কয়েক জন পরিচালনা করে থাকেন।
আরও পড়ুন:
দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’ থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে।স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত হামিমের বাবা মনিরুদ্দিনের মূল বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানেই তাঁর ব্যবসা। ছোট থেকে হাওড়ায় অবাঙালি পাড়ায় থাকার সুবাদে হামিম এবং তাঁর বাকি দুই ভাই-বোনের কথাতেও রয়েছে হিন্দি বা উর্দুর টান।
মনিরুদ্দিনের ভাই দীর্ঘদিন ধরেই বর্ধমানের নবাবহাট মোড়ের কাছে রেনেসাঁ আবাসনে থাকেন। এপ্রিল মাসে হাওড়ার পাট চুকিয়ে বর্ধমানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন মনিরুদ্দিন। তখন ভাইয়ের সাহায্যে এক দালালের মাধ্যমে ওই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সপরিবারে থাকা শুরু করেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন। ফ্ল্যাটের মালিক একতা মেহরা দিল্লিতে থাকেন। তাঁর এক ভাই এখানে ফ্ল্যাট দেখাশোনা করেন। তিনিই মনিরুদ্দিনকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেন। আবাসনের বাসিন্দারা হামিম সম্পর্কে সন্দেহজনক কিছু দেখেননি বলেই দাবি করেছেন। তবে হামিম আবাসনের অন্য যুবকদের সঙ্গে নিয়মিত আবাসনের জিমখানায় ব্যায়াম করতেন। পুলিশ সিসি ক্যামেরার বেশ কিছু ফুটেজও উদ্ধার করেছে, যেখানে হামিমকে শরীরচর্চা করতে দেখা যাচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর এসটিএফ জানতে পেরেছে, এর আগে নিউটাউনেও যাতায়াত ছিল হামিমের। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, হামিমকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি এবং আরএসএস নেতার খবরাখবর সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল আইএসআই-এর । সেই উদ্দেশে একটি নেটওয়ার্ক গঠনও করা হয়ছিল। তবে আইএসআই-এর পরিকল্পনামাফিক হামিম এই বিষয়ে ঠিক কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। এসটিএফ সূত্হারে খবর, মিমের মোবাইল এবং ল্যাপটপ থেকে একাধিক রাজনীতিকের গতিবিধির তথ্য পাওয়া গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও গতিবিধির উপর নজরদারি করার চেষ্টায় ছিল হামিম, ইঙ্গিত এসটিঅফের গোয়েন্দাদের।
শুভেন্দু যে রাস্তা ধরে নিউটাউনের ফ্যাটে ফিরতেন, সেই সমস্ত রাস্তায় তিনি রেকি করেছিলেন বলেও ওই সূত্রটির দাবি। শাহজ়াদ ভাট্টি সহ তার চক্রের একাধিক সদস্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল হামিমের, দাবি গোয়েন্দাদের।