বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও খুনের হুমকির অভিযোগ উঠল আর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে রায়গঞ্জের কলেজপাড়ায় সংস্কৃতের শিক্ষক প্রশান্ত মহলার বাড়িতে গিয়ে অর্থনীতির শিক্ষক দেবাশিস বিশ্বাস অশান্তি পাকান বলে অভিযোগ। বাড়ির সামনে বচসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, প্রশান্ত ও দেবাশিস, দু’জনই আরএসএস নিয়ন্ত্রিত ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’-এর (উচ্চ শিক্ষা) নেতা। মাসখানেক আগে ওই সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব দেবাশিসকে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেন। সে পদে আনা হয় প্রশান্তকে। তখন থেকেই দু’জনের গোলমাল শুরু হয় বলে অভিযোগ। এ দিন প্রশান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন ও রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকারকে মৌখিক ভাবে দেবাশিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। উপাচার্য জানান, তিনি বচসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছেন। তিনি বলেন, “প্রশান্তবাবুকে দেবাশিসবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিতে বলেছি।”
সিসিটিভি ফুটেজে দেবাশিসকে প্রশান্ত কেন পলিটেকনিক কলেজে যান, তিনি কেন টাকা তুলছেন, তাঁকে লিখিত ভাবে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, এমন নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলতে শোনা গিয়েছে। রবিবার প্রশান্ত দাবি করেন, “দেবাশিসবাবু মত্ত অবস্থায় বাড়ি এসে গালাগালি ও খুনের হুমকি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংগঠনের রাজ্য নেতাদের অভিযোগ জানিয়েছি।” বিকেলে অবশ্য বলেন, “সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করব না।”
দেবাশিসের পাল্টা অভিযোগ, “প্রশান্ত ২০২৪-এ রেজিস্ট্রারকে দিয়ে এক গবেষক-ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষিকার শংসাপত্র পাইয়ে দিয়েছেন। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও দিন অতিথি শিক্ষিকা ছিলেন না। ওঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায়, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দাবি, সংস্কৃত বিভাগের সুপারিশে ওই গবেষককে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল।