E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নার্সিং কর্মীরা কোথায় গেলেন, প্রশ্ন উঠছে আর জি কর-কাণ্ডে

তদন্তকারীদের অনুমান, নির্যাতিতার উপরে হামলা পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। এবং তাই ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে নার্সিং কর্মী-সহ অন্যদের সরানোর ছক কষা হতে পারে বলেও তাঁদের সন্দেহ।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২১

—প্রতীকী চিত্র।

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগে বড় ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল কি না, খতিয়ে দেখছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৪-এর ৮ অগস্ট রাতের ডিউটিতে একাধিক নার্সিং কর্মীর নাম নির্ধারিত থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অনেকেই সে-দিন অনুপস্থিত ছিলেন। সেই রাতেই চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ, খুনের ঘটনাটি ঘটে।

তদন্তকারীদের কথায়, ওই রাতের ডিউটি রস্টারে নাম থাকা নার্সিং কর্মীদের সম্প্রতি কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু সে দিন আর জি করের নার্সিং-স্টেশন কেন ফাঁকা ছিল, তার সদুত্তর মেলেনি। ওই দিন রাতে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের কয়েক জন নার্সিং কর্মী, চিকিৎসক এবং নির্যাতিতার কয়েক জন সহকর্মীর মোবাইল ফোনের টাওয়ারের অবস্থান জরিপ করে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ডিউটির রস্টার অনুযায়ী, নার্সিং কর্মী, চিকিৎসক এবং নির্যাতিতার সহপাঠীদের যেখানে থাকার কথা ছিল, সেখানে তাঁরা ছিলেন না বলে তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে।

তদন্তকারীদের অনুমান, নির্যাতিতার উপরে হামলা পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। এবং তাই ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে নার্সিং কর্মী-সহ অন্যদের সরানোর ছক কষা হতে পারে বলেও তাঁদের সন্দেহ। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, যে সেমিনার কক্ষে ওই রাতে নির্যাতিতা শুয়েছিলেন, সেখানে কোনও বহিরাগতকে ঢুকতে হলে নার্সিং-স্টেশনের সামনে দিয়েই যেতে হবে। তা কর্তব্যরত নার্সিং কর্মীদের চোখে পড়ার কথা। এটা আঁচ করেই ওই তল্লাট ফাঁকা রাখা হতে পারে বলেও তদন্তকারীদের সূত্রে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই জন্য সেমিনার কক্ষে পৌঁছনোর সমস্ত রাস্তা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর জি কর-কাণ্ডের এক মাত্র দণ্ডিত অপরাধী সঞ্জয় রায়-সহ একাধিক ব্যক্তি ওই রাতে সেমিনার কক্ষে ঢুকেছিল কি না তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। সিবিআইয়ের এক কর্তা বলেন, ‘‘আশ্চর্যজনক ভাবে নার্সিং-স্টেশনের সামনে দিয়ে যাতায়াতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সংগৃহীত সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও কোনও স্পষ্ট চিত্র এখনও পর্যন্ত মেলেনি। ওই রাতের কর্তব্যরত নার্সিং কর্মী এবং অন্যদের দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও বয়ানে নানা অসঙ্গতি মিলেছে। ফলে দু’বছরের আগের ঘটনাটি নিয়ে এখনও বিস্তর রহস্য দানা বাঁধছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
rg kar hospital RG Kar Medical College And Hospital

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy