E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বর্ষায় নৌকার দুলুনিতে ঝুঁকি নদী পারাপারে

নদীর ঘাটের অদূরেই রয়েছে সুটরা মুক্তেশ্বর বিদ্যানিকেতন। এই স্কুলে পড়তে যায় পূর্বস্থলীর ১ ব্লকের গাগরা, দোগাছিয়া, কোঁরাপুর-সহ কয়েকটি গ্রামের পড়ুয়ারা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০০:৪১
বেহাল এই বাঁশের সাঁকো।

বেহাল এই বাঁশের সাঁকো। — নিজস্ব চিত্র।

খড়ি নদীর এক পাড়ে পূর্বস্থলীর দোগাছিয়া পঞ্চায়েত। অন্য পাড়ে মন্তেশ্বরের সুটরাঘাট। জল কম থাকলে নদী পারাপার হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। বর্ষা এলেই ফুলে ফেঁপে ওঠে নদী। জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে সাঁকো। ভরা নদীতে তখন যাতায়াতের মাধ্যম হয় কাঠের নৌকা। দুই ব্লকের বাসিন্দাদের বহু বছরের দাবি, একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক। নানা জায়গায় আবেদন করেও ফল মেলেনি, আক্ষেপ বাসিন্দাদের।

নদীর ঘাটের অদূরেই রয়েছে সুটরা মুক্তেশ্বর বিদ্যানিকেতন। এই স্কুলে পড়তে যায় পূর্বস্থলীর ১ ব্লকের গাগরা, দোগাছিয়া, কোঁরাপুর-সহ কয়েকটি গ্রামের পড়ুয়ারা। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি, শিক্ষক, কৃষক-সহ বিভিন্ন পেশার বহু মানুষ ঘাট পেরিয়ে কুসুমগ্রাম-সহ মন্তেশ্বরের বিভিন্ন এলাকায় যান। আবার, মন্তেশ্বর এলাকার কাইগ্রাম, রায়গ্রাম, সুটরা, মনেডাঙা, হাজরাপুর-সহ বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দারা চিকিৎসার প্রয়োজনে পূর্বস্থলী ১ ব্লকে এবং জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য সংলগ্ন নদিয়ার নবদ্বীপে যান। বর্ষা এলে প্রায় ২০০ মিটারের জলপথে বাড়ে ঝুঁকি। বাঁশের সাঁকো না থাকায় তখন শুরু হয় নৌকায় যাতায়াত। দু’টি নৌকা জুড়ে দড়িতে টান দিয়ে নদীর এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে যান যাত্রীরা। লোকজন বেশি হলে জলে দুলতে থাকে নৌকা। বিভিন্ন সময় নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছেন অনেকে, দাবি এলাকাবাসীর।

সুটরাঘাটের বাসিন্দা সুব্রত দাস বলেন, ‘‘বর্ষা এলেই দুই ব্লকের মানুষের খড়ি নদীতে যাতায়াত নিয়ে চিন্তা বাড়ে। এক বার নৌকা এক পাড় অন্য পাড়ে গেলে যাত্রীদের নিয়ে আসতে দীর্ঘসময় লেগে যায়। খালি নৌকা ভর্তি হতে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট।’’ তিনি জানান, বহু বছর ধরে খড়ি নদীতে পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

সুটরা থেকে সড়ক পথে নবদ্বীপ যেতে অতিক্রম করতে হয় ৩৫ কিলোমিটার পথ। নদীতে পাকা সেতু হলে সে দূরত্ব কমে দাঁড়াবে মাত্র ১৩ কিলোমিটারে।তখন পূর্বস্থলীর চাষিরা মোটর ভ্যান, টোটোর মতো ছোট যানবাহনে বিভিন্ন আনাজ কুসুমগ্রাম বাজারে আনতে পারবেন। পাশাপাশি, এই ব্লকের বাসিন্দাদের কুসুমগ্রাম হয়ে বর্ধমান যাতায়াতও সহজ হবে। দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শম্ভু ঘোষের বক্তব্য, ‘‘বাঁশের সাঁকো বারবার ভেঙে যায়। আর্থিক ক্ষতি হয়। বৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে এখন। শীঘ্র বন্ধ হয়ে যাবে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত।’’ তাঁর দাবি, এক বার পাকা সেতু হবে বলে মাটি পরীক্ষার কাজ হয়েছিল। তার পরে আর কিছু হয়নি। খড়ি নদীতে পাকা সেতু হলে দুই ব্লকের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ মিটবে।

পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই এলাকায় পাকা সেতুর প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি বিধানসভায় তুলব।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Monsoon Purbasthali

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy