E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ওয়ার্ডের ‘স্বচ্ছ’ কর্মীদের দিকে বিজেপির পুর-নজর

ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, বনসলের পরামর্শে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৩
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরে উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরে কলকাতা এবং হাওড়া পুর-ভোটের ফল নিয়ে আগ্রহ কম রাজনৈতিক শিবিরে! বরং চর্চা চলছে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে। সব ঠিক থাকলে, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে পুরভোট। আর এই নিয়ে বিরোধীদের তুলনায় বিজেপি আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিজেপি সূত্রের খবর, কালীপুজোর আগেই দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। প্রার্থী হিসাবে কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বার বার জানাচ্ছেন নেতৃত্ব। তবে এরই মধ্যে, দক্ষিণ কলকাতায় প্রার্থী কারা হবেন, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে বিশেষ ভাবে চর্চা রয়েছে।

বিজেপির রীতি অনুযায়ী, স্থানীয় ভোটে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দলের রাজ্য কমিটি। সে ক্ষেত্রে প্রার্থী হতে চাওয়া লোকজনের জীবনপঞ্জি, জেলা সভাপতিদের মতামত বিশেষ গুরুত্ব পায়। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বার শাসক বিজেপি পুর-নির্বাচনে লড়বে। সূত্রের খবর, এই আবহে প্রার্থী নির্বাচনের প্রশ্নে কিছুটা হলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতের উপরে নির্ভর করছেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। বিষয়টির তদারকি করছেন রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।

ইতিমধ্যে কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, বনসলের পরামর্শে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম, ওয়ার্ডের আহ্বায়কেরা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও, তাঁরা ভোটে লড়বেন না। তবে জেলা সভাপতিদের নির্বাচনে লড়ার বিষয় সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এই নির্বাচনে লড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয়ত, ঠিক হয়েছে, পুনর্বিন্যাসের পরে ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়েছে। তাই নীতিগত ভাবে বিজেপি চাইছে, ওয়ার্ডের বাইরের বড় নামের তুলনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডেরই নিচু তলার কর্মীদের প্রার্থী হিসাবে সুযোগ দিতে। তৃতীয়ত, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, ৫০ বছরের মধ্যে বয়স, এই দু’টি বিষয়ও মাথায় রাখা হচ্ছে।

বিজেপি সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মণ্ডল স্তর থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পাঁচ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পাঠানো হবে। সেখান থেকে বাছাই করে তিন জনের নাম জেলা থেকে রাজ্যে পাঠানো হবে। রাজ্যের নির্বাচন পরিচালন কমিটি সেখান থেকে একটি নাম বেছে নেবে।

তবে দলীয় শীর্ষ-নেতারা প্রকাশ্যে বিষয়টি উড়িয়ে দিলেও বিজেপির একটি সূত্রের খবর, দলের মাথাব্যথা দক্ষিণ কলকাতা-সহ লাগোয়া এলাকা। উত্তর কলকাতায় প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি যথেষ্ট ‘স্বাবলম্বী’। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার একাংশে প্রার্থী দিতে বেগ পেতে পারে বিজেপি। সমস্যা হতে পারে সংযুক্ত এলাকাতেও। তাই এই অঞ্চলগুলিতে জনপ্রিয়তা আছে, ভাবমূর্তি ভাল এমন প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধি বা অন্য দল থেকে আসা কাউকে প্রার্থী করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। যদিও বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য বলেছেন, “এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমরা আমাদের ক্ষমতা অনুযায়ী দলের প্রতি অনুগত, দলীয় কর্মীদের প্রার্থী করার বিষয়েই আলোচনা চালাচ্ছি। বাকিটা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।”

সূত্রের খবর, জমা জল, পানীয় জলের সমস্যা মেটানো এবং জলাভূমি বোজানোর প্রবণতা বন্ধ— এই তিনটি বিষয়ে কলকাতা পুরভোটে বিজেপির প্রচারের অন্যতম অস্ত্র হতে চলেছে। সূত্রের খবর, দলের ‘সঙ্কল্প-পত্রে’ জলাভূমি উদ্ধারের পরিকল্পনা থাকতে পারে। রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেছেন, ‘‘এত দিন মানুষ শুধু বড় বড় কথা শুনেছেন। কলকাতাকে লন্ডন করার কথা বলে যাবতীয় অনিয়ম করা হয়েছে। এই বারে কলকাতাকে নিজস্ব ছন্দ ফিরিয়ে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy