E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভেন্দুদের ‘দিয়া’, আঁধার-প্রশ্ন মীনাক্ষীর

বাজে কদমতলা ঘাটে গঙ্গার ধারে এক লক্ষ ‘আশীর্বাদী দিয়া’ জ্বালানোর কর্মসূচি হয়েছে সরকারি উদ্যোগে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৮
নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজে কদমতলা ঘাটে।

সলিল চৌধুরী একদা লিখেছিলেন, ‘কার ঘরে প্রদীপ জ্বলেনি, কার বাঁচার অন্ন মেলেনি, কার নেই আশ্রয় বর্ষায়, দিন কাটে ভাগ্যের ভরসায়’...। বলেছিলেন, ‘তুমি হও এক জন তাদেরই’। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিন এবং শাসক হিসাবে তাঁর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সরকারি উদ্যোগে প্রদীপ জ্বালানোর ব্যবস্থা হল। যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির তাবড় নেতৃত্ব। আর ঠিক এর আগে মালদহের ভূতনির চরে প্লাবিত মানুষের কাছে গিয়ে আলো-অন্ধকার নিয়েই প্রশ্ন তুললেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যেরা।

বাজে কদমতলা ঘাটে গঙ্গার ধারে এক লক্ষ ‘আশীর্বাদী দিয়া’ জ্বালানোর কর্মসূচি হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। সেখানে সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে পহেলগামের ঘটনার নিন্দা-সূচক প্রস্তাবের বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছেন, “পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা যে ভাবে পহেলগামে আমাদের ভাই-বোনেদের হত্যা করেছে, তার নিন্দা করে এক দিকে রাশিয়া, আর এক দিকে চিন সই করেছে। এর থেকে প্রমাণ হয় নরেন্দ্র মোদী এখন বিশ্বের এক নম্বর নেতা।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কোভিড-কালে ভারতের ভূমিকার কথাও বলেছেন। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে যে আরও উন্নয়ন হতে চলেছে, সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ছিলেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতনরাম মাঝি। বৌবাজার-সহ নানা জায়গায় মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে উড়েছে ফানুসও।

ভূতনির চরে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে প্রমুখ।

ভূতনির চরে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমিত দে প্রমুখ।

উল্টো দিকে, মোদীর জন্মদিবসের আগের দিন ভূতনির চরে প্লাবিত প্রায় ১৫টি গ্রামে পৌঁছেছেন সিপিএমের মীনাক্ষী, সুমিত দে, অম্বর মিত্র, জামিল ফিরদৌস, দেবজ্যোতি সিন্হারা। এলাকায় ঘুরে তাঁদের দাবি, প্রশাসন যে ত্রাণের কথা বলছে, দুর্গত মানুষের অভিজ্ঞতা তার সঙ্গে মিলছে না। ওষুধ ও বিদ্যুৎ পরিষেবার সঙ্কট, নলকূপের সমস্যা রয়েছে এলাকায়। কিছু দিন ধরে জল কিনে হতে হচ্ছে মানুষকে। মীনাক্ষীর কথায়, ‘‘এতগুলো মানুষ জলের তলায়। আর এক জনের জন্মদিন, তার জন্য সবাই প্রদীপ জ্বালাবে! সেটা যদি সরকারি নির্দেশ হয়, তা হলে এখানে মানুষকে বাঁচাতেও সরকারি নির্দেশ ও উদ্যোগ চাই। ও দিকে আলো জ্বলবে, এ দিকে অন্ধকার থাকবে— এই দু’টো এক সঙ্গে হবে না!’’ রাজ্য সরকারের মন্ত্রী-আমলারা যে ভাবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম।

একই মধ্যে, এ দিন বিজেপির বিধাননগর রাজ্য দফতরে শিল্পী সুশান্ত রায়ের মোমের তৈরি মোদীর মূর্তি উদ্বোধন করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, “প্রথমে ছন্নছাড়া হয়ে থাকা গুজরাত, তার পরে অপ্রাসঙ্গিক ভারতকে যিনি বিশ্ব-মঞ্চে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন, তিনি মোদী।” মোদীর মঙ্গল কামনায় দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন শমীক। পাশাপাশি, এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ প্রজ্জ্বলনও করেছেন শমীকেরা। তাঁর সংযোজন, ‘গঙ্গার বুক চিরে ছুটে চলা এই মেট্রো শুধু ভারতের আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের এক গৌরবময় অধ্যায় নয়, এটি নতুন ভারতের আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং উন্নয়নের প্রতীক।’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy