তারাতলার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও ট্রমা কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনে এসে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘বড় বিপর্যয় হলে তা সামলানোর ক্ষমতা সরকারি হাসপাতালের নেই। তারা বড়জোর ৫০-১০০ জন রোগীকে সামলাতে পারবে। কিন্তু, অন্তত ২৫০ জনকে দ্রুত প্রাথমিক পরিষেবা দিতে পারে, এমন ট্রমা কেয়ার সেন্টার বানানো উচিত।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ট্রমা কেয়ার সেন্টার তৈরির জন্য অনেক জায়গা সরকারি হাসপাতালে আছে। এর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিবকে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্য ভবনে চালু হওয়া ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম’ পরিদর্শনে এ দিন আচমকাই আসেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘পুরোটা এখনও প্রস্তুত হয়নি। ধাপে ধাপে সব হবে। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা ও মহকুমা স্তরের হাসপাতালগুলিকে নজরদারির আওতায় আনতে বলা হয়েছে।’’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগের মেঝে, বারান্দা, রান্নাঘর, পার্কিং-সহ সব জায়গায় সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হচ্ছে স্বাস্থ্য ভবন থেকে। পাশাপাশি, দালাল-চক্রের উপরেও কেন্দ্রীয় ভাবে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৪টি মনিটরের মাধ্যমে শহর ও শহরতলির সব মেডিক্যাল কলেজ ও জেলার চারটি সরকারি হাসপাতালে এই নজরদারি চলছে এবং ‘ফেস রিকগনিশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ওপ্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার।
এ দিন এসএসকেএমে বার্ন ইউনিটের পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ সাধারণ ও আইসিইউ-এর শয্যা বৃদ্ধির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল চত্বরে খোলা জায়গায়অপেক্ষারত রোগীর পরিজনের জন্য টিনের ছাউনি দেওয়া আশ্রয়স্থল, শৌচাগার, পাখা-সহ ব্যবস্থা তৈরিতে আপাতত ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও বলেন।