স্কুলে যাওয়ার জন্য বন্ধুর সঙ্গে সে-ও ভিড় বাসে উঠতে গিয়েছিল। কিন্তু বন্ধু উঠে গেলেও নীচের পাদানিতে দাঁড়িয়ে আর ভিড় ঠেলে ঢুকতে পারছিল না ছেলেটি। তখন প্রায় ঝুলতে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ওই স্কুলছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে কন্ডাক্টর ধাক্কা মেরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জানায়, রাস্তায় ছিটকে পড়া মহম্মদ শোয়েবকে এর পরে পিছন থেকে আসা একটি অটো ধাক্কা মারে। রাস্তার এক ধারে ছিটকে পড়ে বছর দশেকের ওই বালক। সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পার্ক সার্কাস ৪ নম্বর ব্রিজে।
পুলিশ জানায়, গুরুতর জখম ওই ছাত্রকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যাল ও পরে সেখান থেকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্রের খবর, ছাত্রের মাথায় ও হাতে গুরুতর চোট লেগেছে।
কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসই়ডি) গৌরব শর্মা বলেন, ‘‘সিসিটিভি-র সাহায্যে বাসটি খুঁজে বার করা হবে। তার পরে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করে ওই কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছি।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, যেই বাসের কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেটি গঙ্গানগর-বানতলা (ভায়া তপসিয়া) রুটের একটি বেসরকারি বাস।
জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রুটে সাত-আট জন বাসমালিক আছেন। সম্প্রতি তাঁদের সঙ্গে জয়েন্ট কাউন্সিলের বৈঠক হয়। ওই রুটের বাস মালিকেরা জয়েন্ট কাউন্সিলে যোগ দিতে আবেদন জানান। সেটা এখনও বিবেচনাধীন। তার মধ্যেই এই ঘটনা। জয়েন্ট কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘খুবই নিন্দনীয় ঘটনা। অন্য সংগঠনগুলির সঙ্গেও কথা বলব। প্রথমে ওই কন্ডাক্টরকে শনাক্ত করা হবে। তার পরে কলকাতার কোনও রুটেই ওই ব্যক্তি যাতে কন্ডাক্টরি না করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে।’’
আহত শোয়েব বেকবাগানের ইসলামিয়া স্কুলের ছাত্র। সে ও তার বন্ধু মহম্মদ দানিশ স্কুলে যাওয়ার জন্য এ দিন বাসে উঠছিল। তাদের দু’জনের বাড়িই কুষ্টিয়া রোডে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বাসে ভি়ড় ছিল। দানিশ উঠে গেলেও কিছুতেই উঠতে পারছিল না শোয়েব। পাদানিতে দাঁড়িয়ে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেও পারছিল না। দানিশের কথায়, ‘‘বাসে ওঠার পর থেকেই কন্ডাক্টর বলছিল, চড়না হে তো চ়়ড়ো। নেহি তো উতর যাও। আমি কোনও রকমে ঢুকলেও, শোয়েব পারেনি। কন্ডাক্টর শোয়েবকে ধাক্কা মারে।’’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, অটোচালক শোয়েবকে বাস থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়তে দেখলেও গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। চলন্ত বাস থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে আঘাত পাওয়া শোয়েবকে এ বার ধাক্কা মারে অটোটি। বাসটি অবশ্য না থেকে দ্রুত গতিতে চলে যায়।