মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় নামছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের একাংশ ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির তরফে ইতিমধ্যে ডিরেক্টরেট অব মাদ্রাসা এডুকেশনকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা গেজেট নির্দেশিকায় বেরোলেই মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতিও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট আইন ও বিধি মেনে গঠিত মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করে আসছে। ধর্মনির্বিশেষে যোগ্য প্রার্থীরা এই কমিশনের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। ফলে কমিশন তুলে দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই। তুলতে গেলে কমিটি গঠন করে বলতে হবে কোন যুক্তিতে তুলে দেওয়া হচ্ছে? এমন কোনও কমিটি গড়াও হয়নি। দাবি, কার্যত জোর করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ আতিয়ার রহমানের মতে, এসএসসির মাধ্যমে মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে আইনি জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকছে। কারণ এ দেশের ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ অধিকার রয়েছে। আতিয়ার বলেন, ‘‘সংবিধানের ৩০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তা পরিচালনার মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলি মূলত এই অধিকারের আওতায় পড়ে। রাজ্য সরকারের একক সিদ্ধান্তের ফলে যদি তাদের প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য বা নিয়োগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ঘটে, তবে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।’’ আতিয়ার জানাচ্ছেন, অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা হলে সুপ্রিম কোর্ট ওই আইনকে বৈধ বলে রায় দেয়। তা ছাড়া এসএসসি আইনের ১৫এ ধারায় বলা হয়েছে, এসএসসি কোনও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে না। তা হলে এসএসসি কী ভাবে মাদ্রাসায় নিয়োগ করবে? বিধানসভায় আইন পাল্টানো যাবে না। কারণ তাতে সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার খর্ব হবে।
শিক্ষা দফতরের একাংশ বলছে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব এসএসসির অধীনে আনা হচ্ছে। এই যুক্তি অসার বলে দাবি আতিয়ারের। হাওড়ার বাগনানের খাজনাবাহালা হাই মাদ্রাসার (উচ্চ মাধ্যমিক) প্রধান শিক্ষক তথা নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্য মনিরুল ইসলাম ও নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলামের মতে, সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাগুলি দুর্বল করা হচ্ছে। যা ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী সমাজের পক্ষে বিপজ্জনক।