বছর চারেক আগে তৃণমূল কংগ্রেস আমলে সিপিএমের ছাত্র-যুবদের ডাকে হওয়া ‘ইনসাফ সভা’ পুলিশের অনুমতির জটিলতায় ধর্মতলা ট্রাম টার্মিনাসের পাশ থেকে ভিক্টোরিয়া হাউসের কাছে ধর্মতলা মোড়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এ বার বিজেপি আমলে গণতন্ত্র, শিক্ষা, সংবিধান বাঁচানোর ডাক দিয়ে এবং শিল্প-কাজ চাই দাবি তুলে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর ‘ইনকিলাব সমাবেশ’ উপলক্ষেও রবিবার ধর্মতলা চত্বরে ভিড় হল নজরে পড়ার মতোই। রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন মতাদর্শগত লড়াই তীব্র হচ্ছে, সেই আবহে নিজেদের মতাদর্শে শাণ দেওয়ার বার্তাও সমাবেশ থেকে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সমাবেশে ভিড়ের দিকে তাকিয়ে একে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘লড়াইয়ের প্রস্তুতি’ বলে বর্ণনা করেছেন ডিওয়াইএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক তথা সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
চলতি বছরে ভগৎ সিংহদের তৈরি ‘নওজওয়ান ভারত সভা’র ১০০ বছর উদযাপন শেষ হবে। এই সূত্রেই নওজওয়ান সভার তোলা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশের নামকরণ করেছে সিপিএমের যুব সংগঠন। তাদের অভিযোগ, গত জুনে নেতাজি ইন্ডোরে সভা করার জন্য আবেদন করা হলেও উত্তর দেয়নি সরকার। তাই রাস্তাতেই হয়েছে সমাবেশ। সেখানেই সেলিম এ দিন বলেছেন, “তৃণমূলের নাম, প্রতীক শুভেন্দু অধিকারী কেড়ে নিতে পারেন। কিন্তু মতাদর্শগত লক্ষ্য থেকে ডিওয়াইএফআই-এর মতো বামপন্থী সংগঠনকে বিচ্যুত করতে পারবেন না!” বিজেপির রাজনীতিকে নিশানা করে সেলিমের তোপ, “সরকার প্রতিশ্রুতি পালন করছে না। উল্টে জনতার লড়াই ভাঙতে ধর্মীয় বিভাজন করছে বিজেপি সরকার। আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কোনও ধর্মকে অন্য কোনও ধর্মের উপরে চাপানোর বিরুদ্ধে। সরকারের কাজ, শিক্ষা, কাজকর্ম, বাণিজ্য ঠিক চলছে কি না, সেটা দেখা।” এই সূত্রে সেলিম স্মরণ করিয়েছেন, মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা, দু’পক্ষের রাজনীতিকেই ধিক্কার জানিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু।
পথের আন্দোলনকে তীব্র করার বার্তা দিয়েছেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষীও। তিনি বলেছেন, “এটা প্রস্তুতি-সমাবেশ। এখান থেকে প্রস্তুতি নিয়েই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। অনেকে ভেবেছিলেন, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার উন্নয়ন করবে। কিন্তু দেখা গেল, রেল বেচে দিচ্ছে, বিএসএনএল কর্মী ছাঁটাই করছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেই রাজ্যের ছেলেমেয়েদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।” ডিওয়াইএফআই-এর আর এক প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক আভাস রায়চৌধুরীর দাবি, “আজ়াদি শব্দ শুনলে সরকারের কষ্ট হয়। কারণ, স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে আরএসএস নিজেদের সরিয়ে রেখে ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে ভাঙার জন্য বিভাজন করেছিল।”
সমাবেশে বক্তা ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা এবং রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকারও। বিজেপি সরকারের আমলে পুনর্বাসন ছাড়া হকার-উচ্ছেদের যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন হিমগ্নরাজ। ধ্রুবজ্যোতির তোপ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৮ হাজার স্কুল বন্ধ করেছিলেন। এই সরকার ১০০ দিনের মধ্যে বলছে ৪ হাজার স্কুল বন্ধ করবে। এই আক্রমণ রুখতে হবে।”