অভিযোগ ওঠে বারবার। কোনও সমন্বয় নেই রাজ্যের রেল পুলিশ (জিআরপি) এবং রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-র মধ্যে। ফলে ব্যাহত হয় যাত্রী নিরাপত্তা থেকে রেলের সম্পত্তি রক্ষার কাজ। এ বার সেই সমন্বয় বাড়ানোর জন্য জিআরপি এবং আরপিএফ-এর যৌথ গোয়েন্দা বাহিনী গড়ার দাবি জানাল পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য।
রেল বোর্ড সূত্রে খবর, চার মাসে সারা দেশে রেলে নাশকতার ৬৫টি ঘটনা ঘটেছে। তার নিরিখে সোমবার রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু বিভিন্ন রাজ্যের রেল পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। নবান্ন সূত্রের খবর, কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, কেরল, কর্নাটক, জম্মু-কাশ্মীর-সহ বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, জিআরপি এবং আরপিএফের মধ্যে কোনও সমন্বয় নেই। যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আরপিএফ। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্তার অভিযোগ, বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরপিএফ সিসিটিভি-স্ক্যানার বসাচ্ছে। কিন্তু কোথায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সব তারা জিআরপি-কে জানাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গে পূর্ব রেল, দক্ষিণ-পূর্ব রেল ও নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেল— এই তিনটি শাখা (জোন) রয়েছে। রয়েছে হাওড়া, শিয়ালদহ, নিউজলপাইগুড়ি ও খড়্গপুরের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই সব স্টেশনের নিরাপত্তার বিষয়ে জিআরপি-কে অন্ধকারে রাখলে যাত্রী সুরক্ষা যে সুনিশ্চিত করা যাবে না, তা ভিডিও কনফারেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।’’
রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, রেলের সুরক্ষার জন্য আরপিএফ এবং জিআরপি-কে নিয়ে যৌথ কমিটি তৈরি করা হোক। নিয়মিত জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে রেল পুলিশ-প্রশাসনের বৈঠক হওয়াও জরুরি। একই ভাবে ডিআরএমদের সঙ্গে বৈঠক করলেও সমন্বয় বাড়বে। কাজের সুবিধা হবে।
ঝাড়খণ্ডের রেল পুলিশের ডিজি বি কে পাণ্ডে রেলমন্ত্রীকে বলেন, রাজ্যের ২৬টি রেল থানা মাওবাদী অধ্যুষিত। কিন্তু রেল পুলিশের থানাগুলির উন্নতি হয়নি। সেখানে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। কর্নাটক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারা দেশে আরপিএফের ২১ আইজি আছেন। তার পরেও দেশের রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর ঠিক মতো মিলছে না। কেন রেল দুর্ঘটনাগুলির তদন্ত দ্রুত হচ্ছে না তা-ও জানতে চান কর্নাটকের রেলকর্তা।
ভিডিও কনফারেন্সে হাজির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশকে নাশকতার ঘটনাগুলি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আরপিএফ-জিআরপি-র মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে রেল বোর্ড সূত্রের খবর।