Advertisement
E-Paper

দুর্বল আর্দ্রতায় জ্বালাচ্ছে শুকনো বাতাস

বর্ষা থেকে হেমন্ত, শীত থেকে বসন্ত— পঞ্জিকা-কথিত সব ঋতুতেই তুঘলকিপনা দেখিয়েছে প্রকৃতি। এ বার গ্রীষ্মের দোরগোড়াতেও তার মর্জির নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। শীতকে যে প্রায় মাথা তুলতেই দেয়নি, বসন্তকে আটকে রেখে দিয়েছে পাঁজির পাতায়, চৈত্রে সেই গরমের হলটা কী?!

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৬ ০৩:৪৬

বর্ষা থেকে হেমন্ত, শীত থেকে বসন্ত— পঞ্জিকা-কথিত সব ঋতুতেই তুঘলকিপনা দেখিয়েছে প্রকৃতি। এ বার গ্রীষ্মের দোরগোড়াতেও তার মর্জির নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। শীতকে যে প্রায় মাথা তুলতেই দেয়নি, বসন্তকে আটকে রেখে দিয়েছে পাঁজির পাতায়, চৈত্রে সেই গরমের হলটা কী?!

দখিনা বাতাস নেই। নেই বিকেলের দিকের সোঁদা বাতাসও। তার বদলে দুপুরে গুজরাতের মতো শুকনো বাতাস জ্বালা ধরাচ্ছে গায়ে। ঘাম তেমন হচ্ছেই না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সারা ক্ষণই একটা অস্বস্তি। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

সমুদ্রতীরবর্তী উপকূলীয় এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে সারা বছর আর্দ্রতা দেশের অন্য অনেক জায়গার থেকে বেশি হবে, এটাই দস্তুর। কিন্তু রবিবারের কালবৈশাখীর পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, হঠাৎই বাতাস লাগামছাড়া মাত্রায় শুখা হয়ে গিয়েছে। বুধবার ন্যূনতম আর্দ্রতা ছিল ১৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তা সামান্য বেড়ে হয়েছে ২৫ শতাংশ।

কয়েক দিন ধরে ভোরের দিকে আকাশে মেঘ থাকছে। সূর্যোদয় দেখাই যাচ্ছে না। সকালের হাওয়াটাও ক’দিন যেন হাওয়া হয়ে গিয়েছে! বেলা বাড়তেই মনে হচ্ছে, চামড়া থেকে কেউ যেন শুষে নিচ্ছে রস।

ঋতু-স্বভাব ভুলে আবহাওয়ার হঠাৎ এমন পরিবর্তন কেন?

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিজ্ঞানীরা বলছেন, শীতের পরে বঙ্গোপসাগরের বাংলা-ওড়িশা উপকূলে থাকা কোনও উচ্চচাপ বলয় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বাতাসে জলীয় বাষ্প জোগায়। কিন্তু হঠাৎই তা সরে যাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের ঘাটতি পড়ছে। তার ফলেই বদলে গিয়েছে গরমের চরিত্র।

বাংলা-ওড়িশা উপকূলের উচ্চচাপ বলয় হঠাৎ সরে গেল কেন?

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথের ব্যাখ্যা, উচ্চচাপ বলয়ের এই আকস্মিক অন্তর্ধানের জন্য দায়ী ভূমধ্যসাগর থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়া (পশ্চিমি ঝঞ্ঝা)। কয়েক দিন আগেই ঝঞ্ঝার প্রভাবে কাশ্মীরে বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়েছে। তার ফলে বায়ুমণ্ডলের মধ্য ও উপরের স্তরে বইছে জোরালো উত্তর-পশ্চিমি হাওয়া। সেই জোরালো হাওয়ার দাপটে সরে বঙ্গোপসাগরের উচ্চচাপ বলয় সরে গিয়েছে। দখিনা বাতাসের বদলে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে হাওয়া বইছে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে। তাই রোদের তেজ বাড়লেও প্যাচপেচে গরমের বদলে মিলছে শুকনো গরম।

তা হলে আবার ভোরের দিকে আকাশে মেঘ জমছে কী ভাবে?

আবহবিদদের একাংশের ব্যাখ্যা, বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব ভারতে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে। তার ফলে কিছুটা জলীয় বাষ্প ঢুকছে। সেটাই ঘনীভূত হয়ে ভোরের দিকে আকাশে মেঘ তৈরি করছে। আবার সূর্য উঠলেই তা কেটে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশ থেকে শীত এ বার বিদায় নিয়েছে ফেব্রুয়ারিতেই। তার পরে মার্চের শেষ পর্বে এসে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এবং তার প্রভাবে হাওয়ার দিক-বদলকে অবশ্য অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন না মৌসম ভবনের আবহবিদেরা। তাঁরা বলছেন, মার্চের এই সময়ে ঋতু বদলায়। আবহাওয়ার পরিস্থিতিও তাই টালমাটাল থাকে। এই সময়ে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার আচমকা আক্রমণে উচ্চচাপ বলয়ের সরে যাওয়াটা তাই অস্বাভাবিক নয়। ‘‘গরম জাঁকিয়ে বসলে উচ্চচাপ বলয়ও থিতু হবে,’’ মন্তব্য মৌসম ভবনের এক কর্তার। ওই উচ্চচাপ বলয় ফিরে না-এলে বাতাসে জলীয় বাষ্প ঢুকবে না, তৈরি হতে পারবে না কালবৈশাখীর উল্লম্ব মেঘও।

আম-বাঙালির প্রশ্ন, শুকনো গরম আর ক’দিন সইতে হবে?

এই শুকনো গরম আরও দিন তিনেক চলবে। তার পরে নতুন একটি উচ্চচাপের হাত ধরে আর্দ্রতা ফের বাড়তে পারে, পূর্বাভাস আলিপুরের।

weather air moisture

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy