পুজোর আগেই ফের ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ল বঙ্গে। আর সেই সঙ্গেই নতুন সঙ্কট দেখা দিল বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে!
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তামিলনাড়ুর দু’টি, পুদুচেরি ও অসমের একটি করে বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের জোড়া কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে কাল, বুধবারই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর।
রাজ্যে জোড়া উপনির্বাচনের জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসক বিজেপি। একই সঙ্গে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্র থেকে বিধানসভা ভোটে জেতার পরে পূর্ব মেদিনীপুরে নিজের পুরনো আসন ছেড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার পুনর্নির্বাচনের চেয়েও বড় ব্যবধানে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন জিততে হবে বলে দলকে বার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরের জেতা দ্বিতীয় কেন্দ্র রেজিনগর (নওদা রেখে যেটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি) আসনেও বিরোধীদের ভোট বিভাজনের জেরে জয়ের রাস্তা খুঁজছে পদ্ম শিবির।
কিন্তু সঙ্কট দেখা দিয়েছে তৃণমূল শিবিরে। কে ‘আসল’ তৃণমূল, সেই প্রশ্নের ফয়সালা এখনও করেনি কমিশন! প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনও ঝুলে। তার মধ্যেই উপনির্বাচন ঘোষণা হয়ে মনোনয়নের দিন এসে পড়েছে। এমতাবস্থায় প্রার্থী ঠিক করার জন্য দুই শিবিরকেই জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে হচ্ছে। প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই গোষ্ঠীই! একই দলের নামে দু’জন করে প্রার্থী— এমন পরিস্থিতি এ রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে কার্যত বেনজির!
কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আমরা তো প্রার্থী দেবই। নির্বাচন কমিশনের কাছে দু’তরফের আবেদন জমা রয়েছে। এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এই অবস্থায় আইন মোতাবেক দলীয় প্রতীক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই।’’ বেগতিক বুঝে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির তাদের দাবির দ্রুত মীমাংসা চেয়ে কমিশনের উপরে চাপ বাড়াতে চাইছে। উপনির্বাচন ঘোষণার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের দফতরে কৌশল ঠিক করার বৈঠকে বসেছিলেন ঋতব্রতেরা। বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলায় বিদ্রোহী তৃণমূলের লোকজন আছে, জেলা সভাপতি হিসেবে আছেন প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব ( ডেভিড) সরকার। কিন্তু স্বয়ং শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ঋতব্রতদের তেমন সাংগঠনিক অস্তিত্ব নেই। ফলে, গোটা বিষয়টি নিয়েই তাঁদের ভাবতে হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থী ঠিক করে মনোনয়ন দেব।’’
দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম। তবে নন্দীগ্রামের ক্ষেত্রে বাম শরিক সিপিআইয়ের দাবিও আছে। অন্য দিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নন্দীগ্রামের জন্য পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে রণজিৎ মুখোপাধ্যায়কে। তবে অধীর চৌধুরীর জেলায় রেজিনগরের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্বের মতই গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রের খবর।