বর্ষা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পরে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ডিভিসি জল ছাড়ায় নিম্ন দামোদর অববাহিকায় কিছু অংশে প্রভাব পড়েছে। তবে রাজ্য সরকার সব রকমের পদক্ষেপ করছে। বর্ষাকালীন কন্ট্রোল রুম খোলার কথাও জানান শুভেন্দু। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জলসম্পদ ভবনে তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ডিভিসিকে দুষব না। ডিভিসি খুব ভাল কাজ করছে। একটাও বাঁধ ভাঙেনি। এক লক্ষ ২৫-৩০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার পরে প্রভাব পড়েছে।” ডিভিসি জল ছাড়ার পরে হুগলির গ্রামীন এলাকায় আরামবাগ মহকুমার অধীন ৭টা ব্লক, ৯টা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রভাব পড়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুরে প্রভাব পড়ার কথাও তিনি জানান। তিনি বলেন, “খানাকুল, গোঘাট জাঙ্গিপাড়া, উদয়নারায়ণপুর ওই জায়গায় বলা যেতে পারে, নদীর জল বিপদ সীমায় বইছে। সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ঘাটাল, বাঁকুড়ার সোনামুখী ঠিক আছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আজ বিকেলের পর থেকে জল কমে যাবে।
ত্রাণ বা বিপর্যয় সামলানো প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাপে কাটার ওষুধ মজুত রয়েছে। ডুবুরি, অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ তৈরি। পানীয় জল, রেশনের ব্যবস্থা এবং ‘গোমাতা’ তথা প্রাণিসম্পদের ক্ষতি আটকানোয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজোর আগে পরিস্থিতি নজরে রাখা মাথায় রেখেছে রাজ্য। তবে মালদহের মানিকচকের ভুতনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পর পর তিন বছর ভাঙনে বিপর্যয় নেমেছে ওই এলাকায়। ১৯টি গ্রামে বিপর্যয় ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।”
মালদহের মানিকচকের রতুয়ার ধসের স্থায়ী সমাধানে রাজ্য বিশেষ পরিকল্পনা করতে চলেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়া, কানপুর আইআইটির সহযোগিতা নেওয়া, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রককে এখানে পরিদর্শনের জন্য বলা এবং বিহার, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের ব্যবস্থা হবে। শুভেন্দুর কথায়, “এক বছরে কিছুটা সুফল এবং দু’বছর বাদে স্থায়ী সমাধান দেখতে পাবেন।” উদ্ধারকাজ, ত্রাণ থেকে শুরু করে আপৎকালীন কাজও করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গঙ্গা এবং ভাগীরথীর মধ্যে ব্যবধান এবং তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা অনেক দিনের সমস্যা। বাজেটে অর্থমন্ত্রী একটি প্রকল্প পরিকল্পনা করেছেন। এই নিয়ে জলশক্তি মন্ত্রকে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে তাঁরা খুব বেশি টাকা দিতে পারবেন না। আপাতত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দেবেন। প্রয়োজন অনেক বেশি টাকার। তাই দুর্যোগ মোকাবিলার টাকা, রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে কিছু অর্থের সদ্ব্যবহার করা হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তাকেও’ দুষে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “জনগন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিবেশী রাজ্যের সহযোগিতায় সমাধান আনব।”