E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বন্যা-বিধ্বস্ত ভূতনি

বিকেলে দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বন্যায় ভেসে যাওয়া জমিতে পাট জাঁক দিতে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হয়ে দ্বিজেন মণ্ডলের (৩২)। বাল্লিটোলা গ্রামে তাঁর বাড়ি। জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানান, মৃতদেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:২৭

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

উত্তরাখণ্ড, বিহার থেকে নেমে আসা জলে ফুলে উঠেছে গঙ্গা। আরও খারাপ হয়েছে মালদহের মানিকচকের ভূতনির প্লাবন-পরিস্থিতি। মঙ্গলবার দক্ষিণ চণ্ডীপুরে রিং-বাঁধ কেটে ফুলহার নদীপথে জল নামাতে শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু ভূতনির কালুটোনটোলায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যে গতিতে জল ঢুকছে, সে গতিতে বাঁধের কাটা অংশ দিয়ে জল বেরোচ্ছে না। ফলে, তিন পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায়। বন্ধ জলমগ্ন হাসপাতাল। থানায় জল পাঁচ ফুটের উপরে। বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের।

শিলিগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে এ দিন মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূরের কাছ থেকে ভূতনির খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে হাজির পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘অন্তঃসত্ত্বা, বয়স্ক এবং যাঁদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরাতে বলা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।’’ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, বুধবার ভূতনিতে যাওয়ার কথা সেচ সচিব রাজেশ সিংহের। তিনি বলেন, ‘‘উত্তরাখণ্ড, বিহার থেকে নেমে আসা জলে ভূতনিতে জল বেড়েছে। পরিস্থিতির উপরে আমরানজর রাখছি।’’

এ দিন বিকেলে দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বন্যায় ভেসে যাওয়া জমিতে পাট জাঁক দিতে গিয়ে ডুবে মৃত্যু হয়ে দ্বিজেন মণ্ডলের (৩২)। বাল্লিটোলা গ্রামে তাঁর বাড়ি। জেলার পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানান, মৃতদেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘‘ভূতনি থানার ভিতরে পাঁচ ফুটের বেশি জল দাঁড়িয়েছে। কিছু অফিসার থানার দোতলায় থাকছেন। নৌকোয় যাতায়াত করছেন ওঁরা। বাকি আধিকারিকদের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় মোতায়েন করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে।’’ এ দিন জলমগ্ন ভূতনি হাসপাতাল বন্ধ করে উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েত অফিসের দোতলায় পাঁচ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করা হয়।

সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে নেমে আসা জলে মালদহে দ্রুত বাড়ছে গঙ্গার জল। চরম বিপদসীমার সূচক যেখানে ২৫.৩০ মিটার, সেখানে এ দিন বিকেলে মালদহে গঙ্গার জলস্তর ছিল ২৫.৮১ মিটারে। বন্যার জল বার করতে এ দিন দক্ষিণ চণ্ডীপুরে রিং-বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার কাটা হলেও, পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। দুর্গতেরা জানিয়েছেন, জল যে ভাবে বাড়ছে, তাতে ঘরে থাকা ঝুঁকির ঠেকছে। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় নিরাপদ জায়গায় পৌঁছনো যাচ্ছে না।

ঘরে এক কোমর জল দাঁড়ানোয় ভূতনির মান্নুটোলার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন কালুটোনটোলার বাসিন্দা চম্পা মাহাতো। তাঁর দাবি, “কিছু আসবাব নিয়ে বাঁধে রয়েছি তিন দিন ধরে। কিন্তু একটি ত্রিপল ছাড়া, আর কোনও ত্রাণ মেলেনি। শৌচালয় বা পানীয় জলের ব্যবস্থাও নেই।” যদিও মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত নৌকা নামানো হয়েছে। ত্রাণ বিলি চলছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bhutni flood

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy