পুরভোট-পর্বে শিলিগুড়িতে ‘দলের মুখ’ তথা জেলা সভাপতি গৌতম দেবই কি না গরহাজির দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে!
পুরভোটের নব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী গৌতমবাবুর অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। কারণ, বৈঠকে নবনির্বাচিত পুরপ্রতিনিধিদের ডাকা হলেও তাঁদের সঙ্গে এমন কিছু জেলা সভাপতিও সেখানে হাজির ছিলেন, যাঁরা ভোটে লড়েননি, তবে ভোট-পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।
সূত্রের খবর, বুধবার কলকাতায় নজরুল মঞ্চের ওই বৈঠকে হাজির থাকার জন্য তৃণমূলের শিলিগুড়ি পুরসভার সদ্য মনোনীত দলনেতা নান্টু পাল ও বিধায়ক রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে (দু’জনেই দলের অন্দরে গৌতম-বিরোধী শিবিরের নেতা বলে পরিচিত) থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন দলনেত্রী। কিন্তু সম্প্রতি তিনি শিলিগুড়িতে দু’দিন থাকলেও, গৌতমবাবুকে আলাদা করে কলকাতায় বৈঠকে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ, ভোটে না লড়লেও দলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, কোচবিহারের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষেরা গিয়েছেন সেখানে। তৃণমূল-অন্দরের খবর, তাতেই দলের অনেকে মনে করছেন, শিলিগুড়িতে ‘প্রত্যাশিত ফল’ না হওয়ায় গৌতমবাবুর দায়িত্ব ও ক্ষমতা কিছুটা কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে, আগামী দিনে মন্ত্রী থাকলেও গৌতমবাবুর হাত থেকে কয়েকটি সরকারি পদের দায়িত্ব চলে যেতে পারে কি না, তা নিয়েও দলের অন্দরে জল্পনা বাড়ছে।
যদিও অনুগামীরা বিষয়টি ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, ‘শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’, ‘উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম’ এবং একাধিক রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদে থাকা মন্ত্রী শিলিগুড়িতে ‘অপ্রত্যাশিত ফলের’ পরেই একাধিক পদ ছাড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন নেত্রীর কাছে। গৌতমবাবুও বলেছেন, ‘‘আমার দায়িত্ব কমানো হবে বলে যে রটনা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।’’ তবে শিলিগুড়িতে পুর-বোর্ড গঠনের চেষ্টা তাঁরা এখনও চালাচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব দেননি মন্ত্রী।
কলকাতার বৈঠকে শিলিগুড়ি-প্রসঙ্গ টেনেছেন খোদ মমতাই। বামেদের কটাক্ষ করে তিনি বলেেছন, ‘‘আমার ভয়ে না কি নিজেদের কাউন্সিলরদের নিয়ে দার্জিলিঙে চলে গেল! দলের কর্মীদের প্রতি নিজেদেরই আস্থা নেই!’’