E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বাড়ল জিএসটি আদায়, রাজ্যের বৃদ্ধি নিয়ে চর্চা

জিএসটি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বরে এ রাজ্যের আদায় ছিল ৫২২৯ কোটি টাকা। এ বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৫৫৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৫

—প্রতীকী চিত্র।

রাজস্বের লোকসান-চুরি রুখে এবং রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্য ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য। তাতে প্রথম ক্ষেত্রটিতে ইতিবাচক সাড়া মিলছে। পাশাপাশি, সেপ্টেম্বর মাসে জিএসটি আদায়েও রাজ্যের বৃদ্ধি নথিবদ্ধ হয়েছে। তবে এখনই তাকে খুব একটা আশাব্যঞ্জক মানতে নারাজ অভিজ্ঞ আধিকারিকদের অনেকেই। কারণ, দেশের বড় রাজ্যগুলির তুলনায় সেই বৃদ্ধির হার বেশ কম। অবশ্য, গোটা একটি আর্থিক বছর পূর্ণ হওয়ার পরে জিএসটি সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। তাতে সেই কর সংগ্রহের গতি আরও স্পষ্ট হবে।

জিএসটি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বরে এ রাজ্যের আদায় ছিল ৫২২৯ কোটি টাকা। এ বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৫৫৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শতাংশের নিরিখে এই বৃদ্ধি ৬%। সেখানে বিহার, ওড়িশা, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পঞ্জাব, কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে এই বৃদ্ধি এ রাজ্যের তুলনায় বেশ বেশি। পশ্চিমবঙ্গের মতোই বৃদ্ধি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের। যদিও মধ্যপ্রদেশের জিএসটি ঘাটতি নথিবদ্ধ হয়েছে। আবার উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান, ত্রিপুরা, ছত্তীসগঢ়, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে এই আদায় একেবারেই আশানুরূপ নয়। সব মিলিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর ও চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের জিএসটি আদায় তুলনা করলে গোটা দেশে বৃদ্ধি ১০%।

অবশ্য সরকারি সূত্রের বক্তব্য, সামগ্রিক ভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ কেনাকাটা এবং আমদানি থেকে আসা রাজস্বের কারণে সেপ্টেম্বরে মোট জিএসটি সংগ্রহ ১৪.৭% বৃদ্ধি পেয়ে ২.০৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কেনাকাটার ফলে জিএসটি সংগ্রহ ১০.১% বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষে এই নিয়ে তৃতীয় বার জিএসটি সংগ্রহ ২ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি পার করল।

সাধারণ ভাবে বললে, যে কোনও কেনাকাটার ফলে যে জিএসটি আদায় হয়, তার মধ্যে একটি অংশ কেন্দ্রের (সিজিএসটি) এবং অপর অংশটি রাজ্যের (এসজিএসটি) ভাগে থাকে। তার পরে কেন্দ্রীয় করের একটা ভাগ রাজ্যগুলিও পেয়ে থাকে। আর্থিক বিশ্লেষকদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এ রাজ্যের ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর মাসটি পুজোর ঠিক আগের মাস। ফলে কেনাকাটা বাড়ার একটা স্বাভাবিক আশা থেকে যায়। সে দিক থেকে জিএসটি বৃদ্ধির হার আরও বেশি হলে তা ইতিবাচক হিসেবে ধরে নেওয়া যেত। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্প-বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের গতি বাড়লে এবং মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছলে স্বাভাবিক নিয়মেই বাড়বে জিএসটি আদায়ের হার।

প্রসঙ্গত, রাজস্ব লোকসান ঠেকাতে ইতিমধ্যেই নানা ধরনের পদক্ষেপ করছে রাজ্য। তাতে বালি-পাথরের মতো খনিজ পণ্যের অসাধু কারবার রুখে রাজস্ব লোকসান ঠেকানোর চেষ্টা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের খবর, গত বছরের তুলনায় এই পদক্ষেপে এ বছর এখনও পর্যন্ত রাজস্ব বেড়েছে অনেকটাই। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকশো কোটি টাকা সেই খাতে রাজ্য আদায় করতে পারছে। এর সঙ্গে বাকি অন্যান্য কর আদায়ও গত বছরের তুলনায় বাড়ছে বলে সরকারের দাবি। এক কর্তার কথায়, “একটি মাস শুধু দেখলে চলবে না। বরং গোটা বছরের তথ্য দেখা জরুরি। বিজেপি সরকার গত মে মাসে ক্ষমতায় এসেছে। চলতি আর্থিক বছরের শেষ দিন ৩১ মার্চ ধরলে ১০ মাস তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে রাজস্ব বাড়ানোর প্রশ্নে রাজ্যের নিজস্ব পদক্ষেপগুলি সুফল দেখা যাবে আগামী আর্থিক বছর থেকে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
GST West Bengal government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy