রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে কর্মরত ১০০ জন শিক্ষক-চিকিৎসককে বদলি করল স্বাস্থ্য দফতর। বুধবার রাতে সেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে রুটিন বদলি বলে দাবি করা হলেও, চিকিৎসক মহলের একাংশ বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দাবি করছেন। যার প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও। বিশেষ ক্ষমতায় কিংবা উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠীর প্রভাবে দীর্ঘ বছর ধরে একই জায়গায় পোস্টিং থাকা চিকিৎসকদের বদল নিয়ে অনেকেই উচ্ছ্বসিত। আবার, বিভিন্ন গবেষণামূলক প্রকল্পে যুক্ত শিক্ষক-চিকিৎসককে কলকাতা থেকে দূরের জেলায় পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, ‘‘যে কাজ বা গবেষণাগুলি ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা করছিলেন, সেগুলি নতুন জায়গায় করার মতো পরিকাঠামো আদৌ আছে কি? আচমকা তাঁদের বদলিতে সেই সমস্ত কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।’’
উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন বিধায়ক চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়ের দুই মেয়ের এক জনকে মালদহ এবং অন্য জনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে বদলি করা হয়েছে। তাঁরা দু’জনেই দীর্ঘ দিন এসএসকেএমে পোস্টিং ছিলেন। আবার, দু’বছর আগে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ফরেন্সিক মেডিসিনের প্রফেসর সোমনাথ দাসকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলির অভিযোগ উঠেছিল। সোমনাথকে এসএসকেএমে আনা হয়েছে।
এসএসকেএমের শল্য বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারকে বাঁকুড়ায়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিকু-র প্রধান চিকিৎসক মিহির সরকার এবং নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্থি-শল্য চিকিৎসক কিরণ মুখোপাধ্যায়কে কোচবিহারে বদলি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এঁরা এত ভাল চিকিৎসক। এসএসকেএম-সহ শহরের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের নামী চিকিৎসক। তাঁদের পরিষেবা থেকে উত্তরবঙ্গ-সহ গ্রামের মানুষ বঞ্চিত হবেন কেন? তাই হয়তো সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’