পুজোর দখল নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে শোরগোল হাওড়ার ডোমজুড়ে। দুর্গাপুজো কমিটির মাথায় কারা থাকবেন, সে নিয়ে হাতাহাতি থেকে ইট ছোড়াছুড়িতে জখম হয়েছেন একাধিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় পুলিশবাহিনী এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ)।
ডোমজুড় রাজাপুর জাগদাপোতা এলাকার বারোয়ারি দুর্গাপুজোটি বেশ পুরনো। কিন্তু এ বার পুজো পরিচালনার রাশ কার বা কাদের হাতে থাকবে, তাই নিয়ে গোলমাল বেধেছে। তৃণমূলের লোকজন দাবি করেন, এত দিন ওই দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা তাঁরাই ছিলেন। এ বারও পরিচালনা কমিটিতে তাঁরাই থাকবেন। বিজেপির কয়েক জন নেতা-কর্মী জানান, পরিচালনার রাশ থাকবে তাঁদের হাতে।
গত কয়েক দিন ধরে এই নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এমনকি, তৃণমূল এবং বিজেপির লোকজন একে অপরের দিকে ইট-পাটকেলও ছোড়েন বলে অভিযোগ। গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। তার পর মোতায়েন করা হয় র্যাফ-ও।
বিক্রম আদক নামে এক বিজেপি কর্মী জানান, এলাকায় একটি মন্দির রয়েছে। সেখানে খুঁটিপুজো করে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের দলের কর্মীরাই এই কাজের দেখাশোনা করছেন। হঠাৎ তৃণমূলের লোকজন গিয়ে মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিবাদ করায় গন্ডগোল শুরু হয়। বিক্রমের কথায়, ‘‘তৃণমূল জমানায় আমাদের অর্থাৎ বিরোধীদের এই পুজো থেকে বঞ্চিত করে রাখা হত। এ বার বিজেপি চেয়েছে গ্রামের সবাইকে নিয়ে পুজো করতে। তৃণমূল তা করতে দিচ্ছে না।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, তাঁরাই এই বারোয়ারি পুজোর উদ্যোক্তা। বিজেপি স্রেফ পুজোর দখল নিতে চাইছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারের গন্ডগোলের পর এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পুজো নিয়ে যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে জট কেটেছে কি না, জানা যায়নি। বস্তুত, এ বার নানা জায়গায় এই একই অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, পুজো করা বিজেপির নেতা-কর্মীর কাজ নয়। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। নানা জায়গায় বারোয়ারি পুজো নিয়ে অশান্তি হচ্ছে।