E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ডানলপের পাশে উন্নয়নের ধ্বজা ওড়াচ্ছে তৃণমূল

বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এবং সাতটি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত বিধানসভায় নাগরিক সমস্যা ঢের। গত লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপির তুলনায় ৪৭০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গুঁড়িয়ে যাচ্ছে বন্ধ কারখানার অবয়ব। মিঠাপুকুরের এই জমিতে রেলের পাত তৈরির কারখানা হবে। জবরদখলকারী ৫২টি পরিবারকে তুলে বিকল্প ঘর দিয়েছে শিল্পোদ্যোগী সংস্থা। সঙ্গে বাড়ির এক জনের চাকরির আশ্বাসও।

অন্য একটি বন্ধ কারখানার জমিতেও শিল্প এসেছে। কিছু কর্মসংস্থানও হয়েছে। গঙ্গায় জীর্ণ ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর পাশে পাশে ছয় লেনের সেতু হচ্ছে। এ সব উদাহরণে সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের ধ্বজা ওড়াচ্ছে তৃণমূল। বদলে দেওয়া হয়েছে পুরপ্রধানকে।

তা হলে এ বারে সহজ জয়? অঙ্ক বা পরিস্থিতি কিন্তু সে কথা বলছে না।

বাঁশবেড়িয়া পুরসভা এবং সাতটি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত বিধানসভায় নাগরিক সমস্যা ঢের। গত লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপির তুলনায় ৪৭০০ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তারা অবশ্য ৯৭৭২ ভোটের ব্যবধানে জেতে। কিন্তু এসআইআরে প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ যাওয়া নিয়ে চিন্তা রয়েছে। দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও পুরো মেটেনি, মানছেন তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। বিদায়ী বিধায়ক তপন দাশগুপ্তকে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না।

তৃণমূল প্রার্থী তথা উলুবেড়িয়া পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক বিদেশ বসুর দাবি, ‘‘কোনও অসন্তোষ নেই। সবাই একজোট। তপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচনী সভায় আসবেন।’’

ভোটের সপ্তগ্রামে যথারীতি বন্ধ ডানলপ কারখানার কথা। বৈশাখের রোদে-পোড়া দুপুরে সেখানে কোকিলের ডাক শোনা গেলেও বসন্ত কবেই উধাও! জঙ্গলাকীর্ণ চৌহদ্দি। কে বলবে, ভারতের প্রথম টায়ার কারখানা! ডানলপের হালে কেন্দ্রকে দোষেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের প্রশ্ন, ডানলপের সব কিছু তৃণমূলের দুর্বৃত্তেরা লুট করার সময় কোথায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী? কারখানার কথায় শ্রমিকের চোখে জল।

অতীতে খেলার সূত্রে এ তল্লাটকে নিজের সঙ্গে বাঁধেন বিদেশ। আশ্বাস, জিতলে ছোটদের মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করবেন। বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী অনেক করেছেন। আমি প্রয়োজনভিত্তিক সব করব।’’ জেলা পরিষদ সদস্য মানস মজুমদারের দাবি, প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। তার নিরিখেই ভোট হবে। এসআইআর-হয়রানি ভোট ফেরাবে।

বিজেপি প্রার্থী স্বরাজ ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূল দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। মাটি-বালির মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। তৃণমূলের প্রচারে মাফিয়ারা। এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তৃণমূল।’’ তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, অবৈধ জমি কারবারের টাকা বিজেপির প্রচারে। সিপিএমের দাবি, দু’দলেরই প্রচারে অর্থনীতির বৈভব সোজাপথের নয়। অভিযোগ মানেনি তৃণমূল- বিজেপি। এক তৃণমূল নেতার দাবি, ‘‘এখন দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ নেই। মানুষ শান্তিতে।’’

কংগ্রেস প্রার্থী সৌগত ঘোষের প্রচারে মানুষের নানা সমস্যার কথা। সিপিএমের আইনজীবী প্রার্থী অনির্বাণ সরকারের অভিযোগ, ‘‘ঈশ্বরগুপ্ত সেতু বেহাল অবৈধ ভাবে বালি তোলায়। গ্রামে জলসঙ্কট। নিকাশি ব্যবস্থা তথৈবচ। চাষে দুর্দিন। শিল্পাঞ্চলে দুর্বৃত্তায়ন চলছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
bansberia TMC dunlop

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy