দু’বছরের বেশি সময় ধরে আটকে ছিল ঠিকাদারদের প্রাপ্য। সেই অভিযোগে তাঁদের বেশিরভাগ কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে কার্যত থমকে গিয়েছিল জলজীবন মিশনের কাজ। সম্প্রতি তাঁদের সেই বকেয়া মেটানোর কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সেই সূত্রে ফের শুরু হয়েছে থমকে থাকা জলজীবন মিশনের কাজও।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের অগস্ট মাস থেকে বন্ধ ছিল এই প্রকল্পের বরাদ্দ। তখনকার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, টাকা খরচ এবং কেন্দ্রীয় বিধি না মানার। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করার পরে কেন্দ্রের সঙ্গেএ নিয়ে দৌত্য শুরু করে। চুক্তি হয় কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে। পাশাপাশি, নতুন আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত হয় রাজ্য। তার পর থেকে বকেয়া মেটানোর কাজশুরু হয়েছে।
আধিকারিক মহল জানাচ্ছে, দু’বছর আগে বরাদ্দ আটকে যাওয়ায় থমকে গিয়েছিল ঠিকাদারদের (যে সংস্থাগুলি জলজীবন মিশনের কাজ করে) পাওনা দেওয়ার প্রক্রিয়াও। তাতে ঠিকাদারদের একটা বড় অংশ কার্যত কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে গতি হারায় মিশন। সম্প্রতি প্রায় ১৬০০ ঠিকাদারকে বকেয়া দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য। সব মিলিয়ে প্রায় ৭,৯০০ কোটি টাকা এই খাতে বকেয়া রয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মেটানো হয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, ঠিকাদারদের বকেয়ার ৫০% যাতে মিটিয়ে দেওয়া যায়, তেমন পরিকল্পনাতেই এগোচ্ছে নবান্ন। ফলে সেই আশ্বাস থেকে ঠিকাদারেরাও কাজ শুরু করেছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, জল জীবন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশের জন্য প্রায় ৮.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা। কয়েকমাস আগেই নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দিল্লি থেকে জলশক্তি মিশনের মন্ত্রী সি আর পাটিলের মধ্যে বৈঠক হয়। সে দিনই কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সে দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ঘরে ঘরে জল পৌঁছনোর যে কাজ হওয়ার ছিল তা করা হয়নি (বিগত সরকারের সময়ে)। গ্রাম-অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজন মতো জলের সংযোগ পৌঁছয়নি। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গকে ২৪ হাজার ৬৪৫ কোটি দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে শুধুমাত্র ১৩ হাজার কোটি টাকাই খরচ হয়েছিল। ফলে অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ বিপুল। কেন্দ্রের সঙ্গে ৩৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দুও। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে মিশনের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এখন শুরু হয়েছে মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১.৭৫ কোটিগ্রামীণ পরিবারে নলবাহিত প্রতিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। তাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৯.৮৮ লক্ষ পরিবারে জল পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। অগ্রগতির হার ৫৬.৯২%। ঠিকাদারেরা টাকা পেতে শুরু করায় ক্রমে কাজের গতি আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর।