E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘ঋতব্রতদের ঢাল করছে বিজেপি’, ক্ষোভ কালীঘাটে

বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পরে দু’মাসের বেশি সময় লেগে গিয়েছে বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যন্ডিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ অগস্ট ২০২৬ ০৭:০২
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে শুরু টানাপড়েনের ছায়া পড়ল বিধানসভার কমিটি গঠনেও। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি) গঠনে ‘বোঝাপড়া’র অভিযোগ তুলল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিধানসভার ৪১টি কমিটির একটিরও চেয়ারম্যান পদে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়কেরা জায়গা পাচ্ছেন না। সরকারি কাজে দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা চিহ্নিত করার এই কমিটি নিজেদের মতো পরিচালনা করতেই সরকার পক্ষ দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের উপরেই আস্থা রেখেছে।

বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পরে দু’মাসের বেশি সময় লেগে গিয়েছে বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যন্ডিং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে। তার পরেও বিরোধী শিবিরে ভাঙনের কারণে বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিন্যাসের দড়ি টানাটানির প্রভাব পড়েছে কমিটি গঠনে। মোট ৪১টির মধ্যে স্বীকৃত বিরোধী হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পরিষদীয় দলকে ১০টি কমিটির চেয়ারম্যান পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার পক্ষ। সেই পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এ বার পিএসি-র চেয়ারম্যান বাছা হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে। কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ অবশ্য বলছেন, ‘‘কে আসল বিরোধী, কে নকল, সেটা মাপার যন্ত্র আজও আবিষ্কার হয়নি! রীতি মেনে বিরোধীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কে বেশি বিরোধিতা করবেন, কে কম বিরোধিতা করবেন, সেটা সরকারের মাথাব্যথা হতে পারে না!’’

বেশ কয়েকটি কমিটির সদস্য বাছাইয়েও চূড়ান্ত অসৌজন্য দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের। এই অংশের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘বিরোধী হয়েও যাঁরা সরকারের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন, তাঁদেরই এক জনকে পিএ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আসলে সরকার পক্ষ বিভিন্ন দফতরের অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি আড়াল করতেই অনুগতদের হাতে দায়িত্ব দিয়েছে।’’ সেই সঙ্গেই প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ দফতর এড়িয়ে গ্রন্থাগার বিষয়ক কমিটির সদস্য মনোনীত করার সমালোচনা করেছেন কুণাল। যদিও পরিষদীয় মন্ত্রীর জবাব, ‘‘ আর দুর্নীতির কথা যদি বলা হয়, তা হলে সেই দুর্নীতির প্রতীক তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার। যাঁরা এ সব ভিত্তিহীন দাবি করছেন, তাঁরা আয়নায় নিজেদের মুখটা দেখুন!’’

প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় থাকাকালীন পিএসি গঠন নিয়ে নানা কৌশল নিয়েছিল তৃণমূলও। একাধিক বার এই কমিটি নিজেদের পছন্দের মুখ বসিয়ে ‘হাতে’ রাখায় সমালোচনায় সরব ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতারা। এ বার সরকার পক্ষ বিরোধী শিবিরের ভাগাভাগির সুবিধা নিতে চেয়েছে। কালীঘাটের প্রতিনিধিদের এড়িয়ে ‘স্বীকৃত’ বিরোধী দলকেই প্রাধান্য দিয়েছে তারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Ritabrata Banerjee TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy