প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনযাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে মানুষের জীবনে আনন্দের জোয়ার নিয়ে আসে নানা উৎসব। ধর্ম, প্রকৃতি, কৃষিকাজ এবং জীবন-জীবিকার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার বিভিন্ন পার্বণ। সেই পার্বণের আনন্দ, সম্প্রীতি এবং মানুষের মধ্যে বিভেদের দেওয়াল ভেঙে একসূত্রে বাঁধার ভাবনাকেই এ বার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরছে বেহালা নূতন দল। ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে তাদের ভাবনার নাম ‘পার্বণ’।
পুজোর সৃজনে রয়েছেন সোমনাথ তামলি। প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে অরিঘ্ন সাহা। তাঁদের পরিকল্পনায় পার্বণের বহুমাত্রিক তাৎপর্যই হয়ে উঠেছে এ বারের শিল্পভাবনার মূল উপজীব্য। বাংলার গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই সারা বছর ধরে ছোট-বড় নানা পার্বণ পালিত হয়। টুসু, ভাদু, ছাতা পরব কিংবা চড়কের মতো উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপন। এই সব পার্বণের টানে মানুষকে যেমন গ্রামাঞ্চল ও মফস্সলে যেতে হয়, তেমনই কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ শহরে আসেন। উৎসবের এই আদানপ্রদানই বাংলার সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
বেহালা নূতন দলের ‘পার্বণ’ ভাবনায় সেই উৎসবমুখর বাংলার ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। পার্বণ কেবল আনন্দ উদ্যাপনের উপলক্ষ নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার মাধ্যমও। ভৌগোলিক, আর্থসামাজিক ও জাতিগত নানা বিভেদকে অতিক্রম করে উৎসব মানুষকে একই আনন্দের স্রোতে মিলিয়ে দেয়। সম্প্রীতি ও ঐক্যের এই বার্তাই এ বারের পুজোর ভাবনার কেন্দ্রে।
তবে জমানা বদলের ছাপ এ বার স্পষ্ট বেহালা নূতন দলের দুর্গাপুজোয়। গত কয়েক বছর ধরে এই পুজোর উদ্বোধন করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার সেই ছবিতে বদল এসেছে। পাশের কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করালেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা বরাবর কলকাতার দুর্গাপুজোয় নতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করি। এ বারও পার্বণ থিমকে কেন্দ্র করে আমরা এমন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যা কলকাতার পুজোয় আগে দেখা যায়নি।’’